উদ্দীপকের চিত্রের S হলো প্লাজমিড। জিন প্রোকৌশলে প্লাজমিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্ল্যাসমিড হচ্ছে ছোট ডিএনএ অণু, যা একটি কোষে থাকে কিন্তু ক্রোমোজোমাল ডিএনএ থেকে আলাদা থাকে। প্লাসমিড ছোট হলেও যেসব অতিরিক্ত জিন ধারণ করে সেগুলো জীবকে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সহায়তা করে। প্লাসমিড vector হিসেবে molecular cloning এ ব্যবহার করা হয়।প্লাসমিডকে replicon s হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডিএনএ এর ইউনিট,যার মাধ্যমে ডিএনএ বাহকের অভ্যন্তরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের প্রতিলিপি গঠন করতে সক্ষম। প্লাজমিড স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকটেরিয়া কোষে বিদ্যমান, এবং এগুলি কিছু ইউক্যারিওটেও ঘটে। প্রায়শই, প্লাজমিডে বাহিত জিন ব্যাকটেরিয়াকে জেনেটিক সুবিধা প্রদান করে, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা।বিজ্ঞানীরা প্লাজমিড ব্যবহার করে জিনকে ক্লোন, স্থানান্তর এবং ম্যানিপুলেট করার জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। গবেষকরা একটি প্লাজমিড ভেক্টরে ডিএনএ খণ্ড বা জিন সন্নিবেশ করতে পারেন, একটি তথাকথিত রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিড তৈরি করে। এই প্লাজমিডটি রূপান্তর নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি ব্যাকটেরিয়াতে প্রবেশ করা যেতে পারে। তারপরে, যেহেতু ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বিভাজিত হয়, সেগুলিকে প্রচুর পরিমাণে ডিএনএ টুকরা অনুলিপি করার কারখানা হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।প্লাজমিডগুলি ব্যাকটেরিয়া কোষ এবং নির্দিষ্ট ইউক্যারিওটে পাওয়া যায়। একটি প্লাজমিড আকারে 1 থেকে 200 kb পর্যন্ত পরিমাপ করে এবং এনজাইম তৈরি করে যা অ্যান্টিবায়োটিক বা ভারী ধাতুকে হ্রাস করতে পারে।এছাড়াও প্লাজমিড ব্যবহার করে বায়োফার্মিং-এর মাধ্যমে অন্য উদ্ভিদ বা প্রাণিদেহে জিন স্থানান্তর করে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা, প্রোটিন, অ্যালকালয়েড, হরমোন, এনজাইম, এন্টিজেন ও এন্টিবডি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। প্লাজমিড ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তোরার জন্য টিকা বা ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে মানুষের জীবনকাল দীর্ঘায়িত হচ্ছে।সুতরাং বলা যায়, প্লাজমিড জিন প্রোকৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।