উদ্দীপকে Q দ্বারা জীবের জিনোম সিকুয়েন্সিংকে বোঝানো হয়েছে। জিনোম সিকুয়েন্সিং এর প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের সঠিক ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব ।
জিনোম সিকোয়েন্সিং হলো আধুনিক জীবপ্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার। কোনো DNA অণু বা DNA খণ্ডের মধ্যে বিদ্যমান বেস অণুক্রম নির্ণয় করার পদ্ধতিই হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং। এ প্রক্রিয়ায় যেকোনো জীবের নমুনা যেমন- লালা, আবরণী কোষ, অস্থিমজ্জা, সিমেন, চুলের ফলিকল, উদ্ভিদের বীজ, পাতা অথবা DNA বিশিষ্ট যেকোনো কোষ ব্যবহৃত হতে পারে। মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাদের শরীর থেকে কোনো নমুনা নিয়ে তা তাদের মা-বাবার নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনার সাথে মিলানো হয়। অর্থাৎ, মৃত ও বিকৃত ব্যক্তির DNA এর সাথে তাদের খুব কাছের লোকদের DNA এর বেস সিকোয়েন্সিং করা হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে নির্দিষ্ট DNA অণুকে রিএজেন্ট চারটি টেস্টটিউবে ভাগ করে দেওয়া হয়, যেখানে বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি DNA খণ্ডের বেস (A, G, C, T) রেসিডিউ শনাক্ত করবে। তারপর জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিস পদ্ধতিতে পাশাপাশি চারটি বিক্রিয়ার প্রতিটিকে পৃথক করা হয় এবং রেডিওঅ্যাক্টিভ ব্যান্ড-এর অবস্থান ও পরিমাণ থেকে সিকোয়েন্স নির্ণয় করা হয়। এরপর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত X-ray স্ক্যানার ব্যবহার করে ইলেক্ট্রোফোরেসিসের রেজাল্ট বিশ্লেষণ করে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় ।
সুতরাং বলা যায়, জিনোম সিকুয়েন্স এর মাধ্যমে মৃত ও বিকৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব.