উদ্দীপকের বস্তুটি হলো প্রোটিনধর্মী যৌগ এনজাইম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এনজাইমের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। জীবদেহের বাইরে এনজাইমের ব্যবহারিক গুরুত্ব নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. ফলের রস তৈরি আম, কমলালেবু, আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি ফলের রস তৈরিতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এসব ফলের রস তৈরিকালে পেকটিন নামক এনজাইম ব্যবহার করলে রসের ঘোলাটে অবস্থা কেটে যায় এবং রস পরিষ্কার ও স্বাদযুক্ত হয়।
২. পনির তৈরি: পনির তৈরিতে এনজাইম রেনিন ব্যবহৃত হয়। রেনিন দুধের ননীকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং পরে ননী থেকে পনির তৈরি করা হয়।
৩. কাপড়ে দাগ মোচন কাপড়ের দাগ উঠাতে আজকাল এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এতে দাগ একেবারে উঠে যায় কিন্তু কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
৪. চামড়া লোমমুক্তকরণ: ট্যানারিতে লেদার তৈরি করার সময় কাঁচা চামড়া থেকে লোম আলাদা করতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৫. ক্ষত নিরাময়: চামড়ায় সৃষ্ট পোড়া ক্ষত নিরাময়ে এক ধরনের এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৬. হজম সংশোধন পেপসিন, অ্যামাইলেজ, পেপেইন ইত্যাদি এনজাইম হজমে সাহায্য করে।
৭. প্রাণ-রাসায়নিক বিশ্লেষণ: বর্তমানে ক্লিনিক্যাল বিশ্লেষণে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক এসিড শনাক্তকরণে ইউরিয়েজ ও ইউরিকেজ নামক এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৮. চোখের ছানির অস্ত্রোপচার ট্রিপসিন নামক এনজাইম প্রয়োগ করে চোখের ছানির অস্ত্রোপচার করা যায়। কারণ ট্রিপসিন চোখের অন্যান্য অংশের কোনো ক্ষতি না করে লেন্সের খোলা অংশ গলিয়ে ফেলে। এরপর সূঁচ দিয়ে টেনে খোলা অংশ বের করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
৯. জমাট রক্ত গলানো: মস্তিষ্ক ও ধমনির জমাট রক্ত গলাতে ইউরোবাইলেজ নামক এনজাইমের ব্যবহারে জাপানে সফলতা পেয়েছে।