উদ্দীপকে উল্লিখিত কোষ বিভাজন দুটি হলো মাইটোসিস এবং মায়োসিস। উভয় কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াই উদ্ভিদের জীবনে অপরিহার্য। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই জাইগোট থেকে ভ্রূণ এবং ভূণ থেকে বহুকোষী উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। সকল উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ও বিকাশ এই বিভাজনের মাধ্যমেই হয়। উদ্ভিদদেহে কোনো ক্ষত সৃষ্টি হলে তা মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, উদ্ভিদের জননাঙ্গ সৃষ্টিতেও মাইটোসিস কোষ বিভাজন অবদান রাখে। তাই বলা যায়, মাইটোসিস কোষ বিভাজন না ঘটলে উল্লিখিত বিষয়গুলো ব্যাহত হবে এবং ভ্রূণ তথা উদ্ভিদদেহের কোনো বৃদ্ধি ঘটবে না।
অপরদিকে, মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ তাদের জনন কোষ তৈরি করে। পুং ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনের ফলে উদ্ভিদ তাদের যৌন জনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বংশধর তৈরি করে। উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সৃষ্টির জন্যও এই বিভাজন দায়ী। তাই বলা যায়, মায়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার বংশবৃদ্ধি ও বংশরক্ষা করে থাকে। উদ্ভিদ জগতে যদি এই বিভাজন না ঘটে তাহলে উদ্ভিদ জগতের বংশবিস্তার থেমে যাবে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, উদ্ভিদ জগতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মাইটোসিস ও মায়োসিস উভয় প্রকার কোষ বিভাজনের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।