HSCBiology 1st Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

ক
ক্রোমোসোম কী?
উত্তর
ক্রোমোজোম হলো বংশগতির প্রধান উপাদান।
খ
সমীকরণ বিভাজন বলতে কী বোঝায়?
উত্তর
মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় ।
যে বিভাজনে প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম উভয়ই একবার করে বিভক্ত হয় সমআকৃতির, সমগুণসম্পন্ন, সমানসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে। এক্ষেত্রে অপত্য কোষের ক্রোমোজম সংখ্যা, গঠন ও গুণাগুণ মাতৃকোষের অনুরূপ হয় বলে মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভজন বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের চিত্র P-তে প্রদর্শিত ধাপটির বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র P হলো মেটাফেজ ধাপ।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের পাঁচটি দশা রয়েছে। এর মধ্যে মেটাফেজ হলো তৃতীয় দশা।
নিচে এর বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১) কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় মেটাকাইনেসিস ঘটে।
২) এ পর্যায়ে ক্রোমাটিডগুলো সবচেয়ে বেশি মোটা, খাটো ও স্পষ্ট দেখা যায়। ক্রোমোসামের এ খাটো ও মোটা হওয়াকে বলা হয় কন্ডেনসেশন।
৩) একটি অতিমাত্রায় কয়েলিং প্রক্রিয়ায় এটি হয়ে থাকে তাই একে বলা হয় সুপার কয়েলিং।
৪) মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ ভাগে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য সেন্ট্রোমিয়ার সৃষ্টি করে।
ঘ
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র ' যে কোষ বিভাজনের ধাপ তার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত Q চিত্র মায়োসিস কোষ বিভাজনের ধাপ।
যে কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস দুইবার এবং ক্রোমোসোম একবার বিভাজিত হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়।
নিচে এর গুরুত্ব দেওয়া হলো-
১। জননকোষ সৃষ্টি: মায়োসিসের ফলে জননকোষ উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটলে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।
২। ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখাঃ প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা এ প্রক্রিয়ার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মায়োসিস না ঘটলে পিতা-মাতা হতে সন্তান-সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন করেই ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতো ।
৩। প্রজাতির স্বকীয়তা ঠিক রাখাঃ ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে।
৪। বৈচিত্র্যের সৃষ্টি: যৌন প্রজননসম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু এক রকম হয় না। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রসিং ওভারের ফলে পৃথিবীতে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৫। অভিব্যক্তি: মায়োসিস বৈচিত্র্য, অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ বজায় রাখে।
৬। গ্যামিট সৃষ্টি ও বংশবৃদ্ধি: ডিপ্লয়েড জীবে মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যামিট সৃষ্টি হয়। গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমেই যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৭। জনুঃক্রম: যে সকল জীবের জীবনচক্রে জনুঃক্রম আছে সেখানে মায়োসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
৮। মেন্ডেলের সূত্র: মেন্ডেলের সূত্রের ব্যাখ্যা দেয়া মায়োসিস ছাড়া সম্ভব নয়।
তাই বলা যায়, জীবজগতে মায়োসিসের গুরুত্ব অপরিসীম।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো


