উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ধরনের কোষ বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজন ছাড়া যেমন দেহের বৃদ্ধি সম্ভব নয়, আবার এই বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হলেও সমস্যা দেখা দেয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- আমরা জানি, মাইটোসিস কোষ বিভাজনে একটি মাতৃ কোষ থেকে দুটি সমগুণসম্পন্ন কোষ উৎপন্ন হয়। নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোসোম একবার বিভক্ত হওয়ার কারণে উৎপন্ন অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। এ বিভাজন সাধারণত জীবের সকল বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন সকল দেহকোষ এবং জননকোষে ঘটে থাকে। ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। কিন্তু মাইটোসিস কোষ বিভাজনটি যখন অনিয়ন্ত্রিত হয় তখন দেহে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কোন কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার ও ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকার প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এই ভাইরাসের E এবং B নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে (যেমন- সাইক্লিন- alks pl) স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় টিউমার। আবার এই দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুসমূহের কাজ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার। ক্যান্সার একটি মারাত্মক রোগ, এর ফলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত।