উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ পর্যায়ের তৃতীয় ধাপ প্যাকাইটিন উপপর্যায়। প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়ে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়। নিচে ক্রসিং ওভারের ফলে জীবজগতে যেসব বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয় তা ব্যাখ্যা করা হলো- ক্রসিং ওভারের ফলে দুটি ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে, ফলে জীনগত পরিবর্তন সাধিত হয়। জিনগত পরিবর্তন সাধনের ফলে সৃষ্ট জীবে বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হয়। বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সৃষ্টিকুলে আসে বৈচিত্র্য; সৃষ্টি হয় নতুন পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা আবার কখনও সৃষ্টি হয় নতুন প্রজাতি। ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নত বৈশিষ্ট্য বিশিষ্ট নতুন প্রকরণ সৃষ্টি করা যায়। এভাবে ফসলী উদ্ভিদের ক্রমাগত উন্নতি সাধন করা হয়। কৃত্রিম উপায়ে ক্রসিং ওভার ঘটিয়ে বংশগতিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব। কাজেই প্রজননবিদ্যায় ক্রসিং ওভারের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। ক্রসিং ওভারের ফলে ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় ঘটে, সাথে সাথে জিনেরও বিনিময় ঘটে। জিনের বিনিময়ের ফলে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিনিময় হয়, ফলে জীবে চারিত্রিক পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে এক সময় নতুন প্রকরণও সৃষ্টি হয়ে যায়।