উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-G এবং চিত্র-H হলো যথাক্রমে মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া । উদ্ভিদের জনুক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় কোষ বিভাজনই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
আমরা জানি, উদ্ভিদের জীবনে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান, কারণ এখানে স্পোরোফাইটিক জনুর সাথে গ্যামিটোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন হয়। যেমন— স্পোরোফাইটিক জনুর সাথে গ্যামিটোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন হয় । Pteris উদ্ভিদ স্পোরোফাইট তথা ডিপ্লয়েড (2n)। এটি হতে উৎপন্ন সোরাস, সোরাসে অবস্থিত স্পোরাঞ্জিয়াম এবং স্পোরাঞ্জিয়ামের ক্যাপসিউলের ভেতরে অবস্থিত স্পোর মাতৃকোষও ডিপ্লয়েড। স্পোর মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর উৎপন্ন করে যা গ্যামিটোফাইটের প্রথম ধাপ। এ হ্যাপ্লয়েড স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস নামক স্বতন্ত্র গ্যামিটোফাইটিক পর্যায়ের সৃষ্টি করে। প্রোথ্যালাসে সৃষ্ট আর্কিগোনিয়াম অ্যান্থেরিডিয়াম এবং এদের ভেতরে সৃষ্ট ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সবই হ্যাপ্লয়েড। এদের মধ্যে নিষেকের ফলে সৃষ্টি হয় ডিপ্লয়েড উস্পোর (2n) যা স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের প্রথম ধাপ। উস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে নতুন স্বভোজী, স্পোরোফাইটিক Pteris উদ্ভিদ। Pteris উদ্ভিদে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান, কারণ এখানে উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, Pteris উদ্ভিদের স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পর্যায় সম্পন্ন করে মিয়োসিস ও মাইটোসিস উভয় কোষ বিভাজনই প্রয়োজন পড়ে। তাই Pteris-এর জনুক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় কোষ বিভাজনই গুরুত্বপূর্ণ।