উদ্দীপকে যে দুই ধরনের কোষ বিভাজনের কথা বলা হয়েছে তা হলো মাইটোসিস ও মায়োসিস। এদের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে তা উল্লেখ করা হলো-
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান হয়। অপরদিকে মায়োসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। মাইটোসিস জীবের হ্যাপ্লয়েড, ডিপ্লয়েড বা পলিপ্লয়েড দেহকোষে ঘটে, ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি হয়। অপরদিকে মায়োসিস সাধারণত জনন মাতৃকোষে ঘটে, ফলে গ্যামিট সৃষ্টি হয়। মাইটোসিসে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। কিন্তু মায়োসিসে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি দুবার বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি হয়। মাইটোসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষের গুণাগুণ মাতৃকোষের সমগুণ সম্পন্ন হয়। মায়োসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষের গুণাগুণ মাতৃকোষ হতে ভিন্নগুণ সম্পন্ন হয়। মাইটোসিসের ক্রোমোসোমে কায়াজমা সৃষ্টি বা ক্রসিংওভার ঘটে না। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোমে কায়াজমা সৃষ্টি ও ক্রসিংওভার ঘটে। মাইটোসিসে ক্রোমোসোম জোড়বদ্ধ হয়ে বাইভ্যালেন্ট সৃষ্টি করে না। অপরদিকে মায়োসিসে ক্রোমোসোম জোড়বদ্ধ হয়ে বাইভ্যালেন্ট সৃষ্টি করে। জীবের প্রকরণ, বৈচিত্র্য সৃষ্টি ও অভিব্যক্তিতে মাইটোসিসের কোনো ভূমিকা নেই। অপরদিকে জীবের প্রকরণ, বৈচিত্র্য সৃষ্টি ও অভিব্যক্তিতে মায়োসিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।