উদ্দীপকে যে পদার্থটির কথা বলা হয়েছে তা হলো এনজাইম। ব্যবহারিক জীবনে এনজাইমের ব্যবহার বহুবিধ।নিচে বিস্তারিত দেয়া হল: কাপড়ে দাগ মোচন (Destaining of fabrics) : কাপড়ের দাগ উঠাতে অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এতে দাগ একেবারে উঠে যায় কিন্তু কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না ।
চামড়া লোমযুক্তকরণ (Debairing of hide) : ট্যানারিতে লেদার তৈরি করার সময় কাঁচা চামড়া থেকে লোম আলাদা করতে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
ক্ষত নিরাময় (Wound healing) : চামড়ায় সৃষ্ট পোড়া ক্ষত নিরাময়ে এক ধরনের এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
হজম সংশোধন (Correcting digestion) : শরীরে এনজাইমের পরিমাণ কমে গেলে হজমে সমস্যা দেখা যায়। এনজাইমের এই ঘাটতি পূরণ হলে হজমে অনিয়ম দূরীভূত হয়। পেপসিন, অ্যামাইলেজ, পেপেইন ইত্যাদি এনজাইম হজমে সাহায্য করে।
প্রাণ রাসায়নিক বিশ্লেষণ (Analyzing biochemicals) : বর্তমানে ক্লিনিক্যাল বিশ্লেষণে এনজাইম ব্যবহার করা
হয় | রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক অ্যাসিড শনাক্তকরণে ইউরিয়েজ ও ইউরিকেজ নামক এনজাইম ব্যবহার করা হয় ।
চোখের ছানির অস্ত্রোপচার (Cataract surgery) : ট্রিপসিন চোখের অন্যান্য অংশের কোনো ক্ষতি না করে লেন্সের খোলা অংশ গলিয়ে ফেলে। এরপর এই সুচ দিয়ে টেনে খোলা অংশ বের করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসায় এনজাইমের ব্যবহার : ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার পরিমাণ কত তা নির্ণয়ের জন্য গ্লুকোজ অক্সিডেজ ও পারঅক্সিডেজ এনজাইম ব্যবহার করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম ব্যবহার করে চিকিৎসকগণ অনেকাংশে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
আইসক্রীম ও ক্যান্ডি তৈরিতে : ল্যাকটেজ এনজাইম ব্যবহার করে নরম, মোলায়েম আইসক্রীম এবং ইনভার্টেজ
এনজাইম ব্যবহার করে ক্যান্ডি তৈরি করা হয়।
জমাট রক্ত গলানো (Dissolving blood clod) : মস্তিষ্ক ও ধমনীর জমাট রক্ত গলাতে ইউরোবাইলেজ নামকএনজাইমের ব্যবহারে
জাপানে সফলতা পেয়েছে।
ফটোগ্রাফি শিল্পে (Photographic industry ) : ফটোফিল্মের জেলাটিন পরিষ্কার করতে প্রোটিয়েজ এনজাইম ব্যবহৃত হয়।
কাগজ শিল্পে (Paper industry) : কাগজ বর্ণহীন করার সময় ব্যবহৃত ব্লিচিং (bleach) এর পরিমাণ কমাতে জাইলানেজ, কাগজে মসৃণতা আনতে এবং পানির পরিমাণ কমাতে সেলুলেজ এবং লিগনিন অপসারণ করে কাগজকে মসৃণ করতে লিগনিনেজ এনজাইম ব্যবহৃত হয়।
রাবার শিল্পে (Rubber industry) : ল্যাটেক্স থেকে রাবার তৈরি করার সময় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরি করতে ক্যাটালেজ এনজাইম ব্যবহৃত হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে। পরিবেশে বিভিন্ন বিদূষক পদার্থের পরিমাণ নির্ধারণে উৎসেচক ব্যবহার করে বায়োসেন্সর তৈরি করা হয়।