প্রথম অণুজীবটি কীভাবে দ্বিতীয় অণুজীবটিকে ধ্বংস করে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম অণুজীবটি দ্বারা ভাইরাসকে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয় অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। ভাইরাস সর্বদাই ব্যাকটেরিয়াকে ভক্ষণের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এসব ভাইরাস ব্যাকটেরিওফায নামে পরিচিত। যেমন- T₂ ব্যাকটেরিয়াফায E. Coli ব্যাকটেরিয়াকে ভক্ষণ করে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়। নিচে T 2- ফাযের সংখ্যাবৃদ্ধির ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো- ধাপ-১: T 2-বাকটেরিওফায সাধারণত E.coli ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে থাকে। E.coli ব্যাকটেরিয়াদের কোষ প্রাচীরে ফাযপ্রোটিনের জন্য ক্রিসেন্টর সাইট (recopter site) থাকে। রিসেন্টর সাইটে প্রাটিনের সাথে ফায ক্যাপসিডের স্পর্শক তন্তুর প্রোটিনের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়ামের প্রাচীরে T2 ফায দূড়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। এটি হলো অক্রমণের সূচনা। ধাপ-২: ফাষ DNA প্রবেশ (Penetration): ব্যাকটেরিওফাযের দন্ডাকৃতিক লেজটি সংকুচিত হয়ে বিশেষ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংযোগ স্থানের প্রাচীরে ছিদ্র তৈরি করে এবং ফায-DNA কে E.coli ব্যাকটেরিয়ামের কোয়মেমব্রেন ভেদ করে সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করিয়ে দেয়। শূন্য প্রোটিন আবরণটি বাইরেই থেকে যায়। (আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টিকারী অনেক ভাইরাসের সম্পূর্ণ দেহটিই পোষক কোথে প্রবেশ করে। পরে পোষক কোষের এনজাইম প্রোটিন আবরণটিকে বিগলিত করে ফেলে এবংভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) মুক্ত হয়। এসব ক্ষেত্রে লাইটিক চক্র ৬টি ধাপে সম্পন্ন হয়।) ধাপ-৩: অনুলিপন (Replication): ফায DNA পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর তার নিজস্ব প্রোমোটার সিকুয়েন্স দ্বারা পোষক কোষের RNA পলিমারেজকে আকৃষ্ট করে। পোষক কোষের RNA পলিমারেজ E.coli DNA কে ছাঁচ হিসেবে ধরে mRNA ট্রান্সক্রাইব করে এবং ফায mRNA তৈরি করে। ফায mRNA পরে প্রোটিন তৈরি করে এবং একটি বিশেষ প্রোটিন (প্রকৃতপক্ষে এনজাইম) E.coli DNA কে খণ্ড বিখও করে নষ্ট করে দেয়। কাজেই পোষক কোষের ফায DNA-এর কোনো প্রতিযোগী থাকে না। ফায DNA নিউক্লিয়োটাইড (E.coli কোষের বিগলিত DNA থেকে মুক্ত হওয়া) কোষের রাইবোসোম, tRNA, অ্যামিনো অ্যাসিড ইত্যাদির কর্তৃক গ্রহণ করে এবং নিজের ইচ্ছেমতো নতুন ফায DNA প্রতিলিপন করে নেয় এবং ফায কোট প্রোটিন (coat protein) তৈরি করে। কোট প্রোটিন মাথা, লম্বা লেজ, স্পর্শক তন্তু, স্পাইক ইত্যাদি অংশ হিসেবে পথক পৃথকভাবে তৈরি হয় ধাপ-৪: বিভিন্ন দেহাংশ একত্রিত হওয়া (Assembly): পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রতিটি ফায DNA এক একটি কোট প্রোটিনের মাথার অংশে প্রবেশ করে। পরে ক্রমান্বয়ে মাথার অংশের সাথে লেজ, লেজের শেষ প্রান্তে স্পর্শক তন্তু, স্পাইক ইত্যাদি সংযুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাকটেরিওফায হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ধাপ-৫: নতুন ভাইরাস মুক্তি (Release): পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রচুর সংখ্যক ব্যাকটেরিওফায তৈরি হওয়ার পর ফায একটি সুনির্দিষ্ট এনজাইম তৈরি করে যার কার্যকারিতায় পোষক কোষের প্রাচীর বিদীর্ণ হয়ে যায় এবং নতুন সৃষ্ট ব্যাকটেরিওফাযসমূহ মুক্তভাবে বেরিয়ে আসে। মুক্ত হওয়া প্রতিটি ফায একটি নতুন E.coli ব্যাকটেরিয়ামকে আক্রমণ করতে সক্ষম। কোষপ্রাচীর বিদীর্ণ হওয়াকে লাইসিন (lysis) বলে। লাইটিক চক্রের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে অসংখ্য ফায সৃষ্টি হয়ে থাকে।
HSC Biology 1st Paper Chapter 4: অণুজীব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 4: অণুজীব · সৃজনশীল
প্রথম অণুজীবটি কীভাবে দ্বিতীয় অণুজীবটিকে ধ্বংস করে ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা · 2025
উত্তর
উত্তর

উত্তর
উত্তর