উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র: A হলো ভাইরাস। আমরা জানি, ভাইরাস অতি আণুবীক্ষণিক, অকোষীয়, জীবদেহের অভ্যন্তরে বংশবিস্তার করে এবং জীবদেহের বাইরে জড়বস্তুর ন্যায় আচরণ করে। ভাইরাসের কিছু বৈশিষ্ট্য জীবের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন আবার কিছু বৈশিষ্ট্য জড় বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন। তাই একে জীব ও জড়ের মাঝে সেতুবন্ধনকারী বলা হয়। নিচে ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্য এবং জড় রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নিচের ব্যাখ্যা করা হলো-
ভাইরাস হলো রোগ সৃষ্টিকারী অকোষীয়, অতি আণুবীক্ষণিক বাধ্যতামূলক পরজীবি। এটি নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত। জীব ও জড় উভয় পরিবেশই ভাইরাসের আবাস্থল।ভাইরাস জীবদেহের সংস্পর্শে না আসলে জড় বস্তুর ন্যায় আচরন করে। তখন বংশবিস্তার করে না, জৈবিক কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে না, খাদ্যগ্রহন করে না, নিস্ক্রিয় থাকে ইত্যাদি কিন্তু জীবদেহের সংস্পর্শে আসলে জীবের মত আচরন করে অর্থাৎ বংশবিস্তার করে, জৈবনিক কার্যাবলি সম্পাদন করতে পারে, পরজীবী, নিস্ক্রিয় থাকে না ইত্যাদি। তাই একে জীব বা জড় কোনটাতেই বলা যায় না।ভাইরাসের অবস্থানের উপর নির্ভর করে এটা জড় হবে নাকি জীব হবে। উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, জল ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে। তাই বলা যায়, ভাইরাস কখনো জীব, কখনো জড়ের ন্যায় বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে।