উদ্দীপকে উল্লেখিত ম্যালেরিয়া পরজীবী মেরুদন্ডী প্রাণী অর্থাৎ মানুষের দেহে অযৌন জনন সম্পন্ন করে, তা বলা হয়েছে মানুষের যকৃৎ লোহিত রক্তকণিকায় জীবাণুর অযৌন জনন ঘটে বলে মানুষকে এ জীবাণুর গৌণ বা মাধ্যমিক পোষক বলে। মানবদেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর অযৌন জননকে সাইজোগনি বলে। সাইজোগনি দুটি পর্যায়ে' ঘটে। যথা- যকৃত বা হেপাটিক সাইজোগনি এবং লোহিত রক্তকণিকা বা এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি, হেপাটিক সাইজোগনির শুরুতে মশকীয় দংশনের ফলে লালাগ্রাস্থিতে অবস্থিত স্পোরোজয়েটগুলো মানুষের রক্তে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে স্পোরোজয়েটগুলো রক্ত স্রোতের মাধ্যমে যকৃত কোষকে আক্রমণ করে এবং বিভিন্ন পর্যায় যেমন ক্রিপ্টোজয়েট, সাইজন্ট, ক্রিপ্টোমেরোজয়েট সৃষ্টি করে। এই পর্যায়ের শেষের দিকে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট যকৃতকোষ বিদীর্ণ করে বাইরে বের হয়ে আসে। মেটাক্রিস্টোমেরোজয়েট আকৃতিগতভাবে দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- বৃহদাকৃতির ম্যাক্রো-মেটাক্রিন্টোমেরোজয়েট। বৃহদাকৃতির ম্যাক্রো-মেটাক্রিস্টোমেরোজয়েট পুনরায় যকৃত কোষকে আক্রমণ করে আর ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রো-মেটাক্রিস্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি শুরু করে। লোহিত কণিকাকে আক্রমণের পর কয়েকটি পর্যায় সম্পন্ন করে যেমন- ট্রফোজয়েট, সিগনেট রিং, অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট, সাইজন্ট, রোজেট দশা ইত্যাদি। সবশেষে মেরোজয়েটগুলো ম্যাক্রোগ্যামেটোসাইট (স্ত্রী) এর গ্যামেটোসাইটগুলো মানুষের রক্তে অবস্থান করে।
এভাবেই ম্যালেরিয়া পরজীবী মানুষের দেহে অযৌন চক্র (যকৃত ও লোহিত রক্তকণিকায়) সম্পন্ন করে।