উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লিখিত পরজীবী যাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করতে দুই ধরনের পোষকের প্রয়োজন হয়, সেটি হলো ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium)। ম্যালেরিয়া পরজীবীর আক্রমণে আক্রান্ত রোগীর রক্তশূন্যতার কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
Anopheles মশকীর মাধ্যমে ম্যালেরিয়া জীবাণু Plasmodium মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। Anopheles মশকীর দংশনের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার জীবাণু দ্বারা মানুষ প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হয়। হেপাটিক সাইজোগনির পর যকৃত কোষ থেকে বের হওয়া জীবাণুর মেরোজয়েট দশা লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে ভেতরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তা সিগনেট রিং, অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশা পার করে বহু নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট সাইজন্ট দশায় পৌঁছায়। সাইজন্ট বহুবিভাজন প্রক্রিয়ায় মেরোজয়েট উৎপন্ন করে। এ সময় কোষে বিষাক্ত হিমোজয়েন উৎপন্ন হয়। লোহিত রক্তকণিকা ভেঙ্গে মেরোজয়েটগুলো হিমোজয়েনসহ প্লাজমায় বেরিয়ে আসে এবং বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। একই সাথে মেরোজয়েটগুলোকে ধ্বংস করার জন্য শ্বেত কণিকা অতিরিক্ত পাইরোজেন নামক বিষাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে। আর এর ফলেই মানবদেহে কম্পন দিয়ে জ্বর শুরু হয়। পরবর্তীতে মেরোজয়েটগুলো পুনরায় লোহিত কণিকাকে আক্রমণ করে তার জীবনচক্র সম্পন্ন করতে থাকে। এ চক্রই এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি। এ চক্রে মানবদেহের রক্তের লোহিত কণিকার ভাঙনের ফলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয় যা পরবর্তীতে মারাত্মক রূপ নিয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।