উদ্দীপকের অনুজীবটি অকোষীয়, অর্থাৎ এটি ভাইরাস। রোগ সৃষ্টি এবং রোগের চিকিৎসায় ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভাইরাস হলো প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত অকোষীয়, অতিআণুবীক্ষণিক রোগজীবাণু বা রাসায়নিক বস্তু যা শুধুমাত্র উপযুক্ত পোষক কোষের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে সক্ষম কিন্তু জীবকোষের বাইরে জড়পদার্থের মতো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। ভাইরাস যে সকল রোগ সৃষ্টি করে এবং রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।
ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ:
১.মানুষের রোগ সৃষ্টি: মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা, পোলিও, হাম, বসন্ত, ডেঙ্গু, ভাইরাল হেপাটাইটিস, জলাতঙ্ক, হার্পিস, এইডস নামক মারাত্মক রোগ বিভিন্ন ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়।
২. মহামারি সৃষ্টি: অনেক ভাইরাস আছে যাদের আক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন- Ebiola, SARS ভাইরাস।
৩. গৃহপালিত পশুর রোগ: গরু ও মহিষের পা ও মুখের ক্ষত রোগ এবং কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক রোগ ভাইরাস দ্বারাই সংঘটিত হয়। হাঁস-মুরগীর অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা বার্ড ফ্লু নামক মারাত্মক রোগ হয়।
৪. উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি: ধানের টুংগো, তামাকের মোজাইক, পেপে ও টমেটোর লিফকার্ল, গোল আলুর লিফরেন, উদ্ভিদের মোজাইক, বুসিস্ট্যান্ট, লিফরোল রোগ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়।
৫. উপকারী অণুজীব ধ্বংসকারী: কিছু ভাইরাস অনেক উপকারী অণুজীব ধ্বংস করে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধান করে। যথা: Xymophage virus, Cyanophage virus, Ty ব্যাকটেরিওফায।
রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার:
১. প্রতিষেধক প্রস্তুতিতে: বসন্ত, পোলিও, প্লেগ, টাইফয়েড, জলাতঙ্ক, জন্ডিস প্রভৃতি রোগের টিকা তৈরিতে ভাইরাসের বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে।
২. ওষুধ হিসেবে: টাইফয়েড, কলেরা, রক্ত আমাশয় নামক ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগে ভাইরাস ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উভয় ক্ষেত্রে ভাইরাসের ভূমিকা পরিলক্ষিত।