উদ্দীপকের c চিত্রে মশা কে নির্দেশ কওরা হয়েছে। ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার মত ভয়াবহ রোগ সমূহ মশকির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই মশকিদের নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেকাংশেই এই মরণ ঘাতী রোগ সমূহ কে নির্মূল কওরা সম্ভব । নিম্নে এই সম্প্ররকে আলোচনা করা হলোঃ
(ক) মশকী নিধন মশককুলের বংশ পরিবেশ হতে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে এদের। বিস্তার রোধ করা যায় -
(i) প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসঃ মশকীরা বদ্ধ পচা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা, যেখানে সেখানে পানি জমতে না দেয়া, বাড়ির আশেপাশের ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল কেটে ফেলার মাধ্যমে মলকীর বসবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
(ii) লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করাঃ পচা পানিতে ডিম ফুটে মশকীর লার্ভা ও পিউপা দশা সৃষ্টি হয়। পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দিলে এরা অক্সিজেনের অভাবে মারা পড়ে। এছাড়া বিএইচসি (BHC), ডায়েলড্রিন। (dieldrin) ইত্যাদি কীটনাশক ওষুধ তেলের পানিতে ছিটিয়ে দিলে মশকীর লার্ভা ও পিউপা যারা যায়। পানিতে জুভেনাইল হরমোন ছিটিয়ে দিলে, লার্ভাগুলোর রূপান্তর ব্যাহত হয় ফলে এরা পূর্ণাঙ্গ মশকীতে রূপান্তরিত হতে পারে না।
উপরোক্ত সবগুলো পদ্ধতিই কমবেশি পানি তথা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। তাই যে সকল জলাশয়ে লার্ভা বা পিউপা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ঐ সকল জলাশয়ে গাপ্পি, কই, শিং, খলসে, তেলাপিয়া, পুঁটি, টাকি ইত্যাদি জাতীয় পার্তিভোরাস মাছ চাষ করলে এরা মশকীর লার্ভা ও পিউপাগুলোকে ভক্ষণ করে। এতে মশকী নিধনের পাশাপাশি পরিবেশও থাকে দূষণমুক্ত।
(iii) পূর্ণাঙ্গ মশককুল নিধনঃ ফগিং মেশিনের মাধ্যমে সালফার ডাই-অক্সাইডের ধোয়া সৃষ্টি করে মশা তাড়ানো বা মেরে ফেলা সম্ভব। এছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ছিটিয়ে বা রেডিয়েশন এর মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে মশকীকুলকে ধ্বংস করা যায়।
(iv)কীটনাশক ব্যবহারঃ অধিকাংশ শহর এলাকাতে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
উপরোক্ত উপায় সমূহ অবলম্বন করে মশা প্রজাতি কে নিয়ন্ত্রণ করলে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মত ভয়াবহ রোগ সমূহ থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব।