উদ্দীপকের B হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া।
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে। ব্যাকটেরিয়া মাটির উপাদান হিসেবেও কাজ করে। নানাবিধ আবর্জনা হতে পচন ক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব সার ও জৈব গ্যাস প্রস্তুত করে থাকে।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter,Pseudomonas,
Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে । নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে মাটিতে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (যেমন- Bacillus
thuringiensis) বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধানের উৎপাদন শতকরা ৩১.৮ ভাগ এবং গমের উৎপাদন শতকরা ২০৮ ভাগ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শিল্প ক্ষেত্রে:
চা, কফি, তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে: চা, কফি, তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
দুগ্ধজাত শিল্পে: দুগ্ধ হতে মাখন, দই, পনির প্রকৃতি তৈরি করতে হলে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতার প্রয়োজন।
পাট শিল্পে: ব্যাকটেরিয়ার পচনক্রিয়ার ফলেই পাটের আঁশগুলো পৃথক হয়ে যায় এবং আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি। কাজেই আমাদের অর্থনীতিতে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা তুলনাহীন। এ ব্যাপারে Clostridium এর ভূমিকা যথেষ্ট।
চামড়া শিল্পে: চামড়া হতে লোম ছড়ানোর ব্যাপারে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অপরিসীম।
জৈব গ্যাস তৈরিতে: জৈব গ্যাস তৈরিতে এবং হেভী মেটাল (ভারী ধাতু) পৃথকীকরণেও ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
টেস্টিং সল্ট প্রস্তুতিতে: টেস্টিং সল্ট প্রস্তুতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। খাদ্যদ্রব্যকে সুস্বাদু ও মুখরোচক করতে এ সল্ট ব্যবহৃত হয়।
রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুতকরণে: ভিনেগার (Acetobacter xylinum দিয়ে), ল্যাকটিক lacticacidi দিয়ে), অ্যাসিটোন (Clostridium acetobutylicum দিয়ে) প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্য শিল্পক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।