উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রুপ A এর রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব হলো ভাইরাস। ভাইরাসের জীবীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অন্যতম হলো সজীব কোষের অভ্যন্তরে এরা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন, T₂ ফায ভাইরাস E. coli ব্যাকটেরিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে। ভাইরাস তথা T2 ফায এর বংশ বিস্তার বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যায় এরা বংশ বিস্তারের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল। T₂ ফাযের বংশ বিস্তার-
সংক্রমণ পর্যায়: ব্যাকটেরিয়া কোষের সংস্পর্শে আসা হতে ভাইরাস DNA ব্যাকটেরিয়ামের কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ পর্যন্ত এ পর্যায়ের বিস্তৃতি। স্পর্শক তন্তুর সাহায্যে এটি E.coli ব্যাকটেরিয়ামের গায়ে লেগে যায়। লেগে থাকা স্থানের কোষ প্রাচীর ছিদ্র হয়ে যায় এবং ভাইরাস শুধুমাত্র তার জেনেটিক বস্তু (DNA) ব্যাকটেরিয়াম কোষে অন্তঃক্ষেপ দ্বারা প্রবেশ করিয়ে দেয়।
সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়: ভাইরাস DNA ও প্রোটিন আবরণ গঠন এবং নতুন ভাইরাস গঠন পর্যন্ত এ পর্যায়ের বিস্তৃতি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাস DNA ব্যাকটেরিয়ামের এনজাইমকে সংগঠিত করে অনেক নতুন ভাইরাস DNA এবং সেই সাথে প্রোটিন আবরণ তৈরি করে। শেষ পর্যায়ে DNA ও প্রোটিন আবরণ মিলে নতুন ভাইরাস সৃষ্টি করে।
বিগলন পর্যায়: ব্যাকটেরিয়ামের কোষ প্রাচীর ছিন্ন করে নতুন ভাইরাসগুলোর বের হয়ে আসাকে বিগলন পর্যায় বলে। এভাবে মাত্র ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে ৩০০ নতুন ভাইরাস সৃষ্টি হতে পারে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভাইরাস সর্বদাই অন্যের সহায়তায় অর্থাৎ E. coli ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় বংশবিস্তারে সক্ষম।