উদ্দীপকে উল্লেখিত যৌগটি হলো চিনি, যার গাঠনিক একক কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে এ এককগুলোর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলে। ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। চিনিতে বিদ্যমান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ তিনটি উপাদানই ম্যাক্রো উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। কার্বন ও অক্সিজেন উদ্ভিদ বায়ু থেকে এবং হাইড্রোজেন পানি থেকে গ্রহণ করে থাকে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বায়ুমন্ডলের CO₂ থেকে কার্বন গ্রহণ করে। CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ সম্ভব নয়। সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে গ্লুকোজ তথা খাদ্য তৈরি সম্ভব নয়। তাই খাদ্য তৈরি না হলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটবে না। আবার উদ্ভিদ বায়ু থেকে ০₂ গ্রহণ করে। এ ০₂ এর উপস্থিতিতেই উদ্ভিদ দেহে শ্বসন ক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। আর উৎপন্ন এ শক্তি উদ্ভিদের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজে সাহায্য করে। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। আবার উদ্ভিদ পানি থেকে হাইড্রোজেন গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণের অচক্রীয় ফটোফসফোরাইলেশনে পানির সালোক বিভাজনের মাধ্যমে তৈরি হাইড্রোজেন আয়ন NADPH2 তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ NADPH2 পরোক্ষভাবে বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে ভূমিকা রাখে। উদ্ভিদের সুদ্ধ-স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য উপাদান হলো পানি। উদ্ভিদে পানির এ প্রয়োজনীয়তা মূলত হাইড্রোজেনের প্রয়োজনীয়তাকেই স্থগিত করে। পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের যৌগটির অর্থাৎ চিনির গাঠনিক এককগুলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।