উদ্দীপকের অনুজীবটির বিস্তার বাহক নির্ভর উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের অনুজীবটি হলো Plasmodium যা মানুষের দেহে ম্যলেরিয়া সৃষ্টি করে । Plasmodium একধরনের অন্তকোষীয় রক্তপরজীবী। মানুষসহ বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর যকৃত কোষ ও লোহিত রক্তকণিকায় এবং Anopheles মশকীর পৌষ্টিক নালি ও লালাগ্রন্থিতে এরা বাস করে। Plasmodium vivax-এর জীবনচক্র সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের দুটি পোষকের প্রয়োজন হয়; যথা- মানুষ ও মশকী। মানুষের যকৃত ও লোহিত রক্তকণিকায় পরজীবীর অযৌন জনন বা সাইজোপনি ঘটে।মানুষ এ পরজীবীর মাধ্যমিক পোষক।Anopheles গণভুক্ত কয়েকটি প্রজাতির মশকীর দেহে পরজীবীর যৌন জনন বা গ্যামিটোগনি সম্পন্ন। মশকী এ পরজীবীর নির্দিষ্ট পোষক। স্ত্রী Anopheles মশকীই ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম।মানবদেহে ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্রবেশের পর বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে একসময় গ্যামিটোসাইট গঠন করে। Plasmodium vivax হতে সৃষ্ট গ্যামিটোসাইটগুলো মানুষের রক্তে ৭ দিন, কিন্তু Plasmodium falciparum হতে সৃষ্ট গ্যামিটোসাইটগুলো ৩০-৬০ দিন, এমনকি ১২০ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময়ের মধ্যে রোগীর দেহ হতে এরা মশকীর দেহে প্রবেশের সুযোগ পেলে পরবর্তী চক্র সম্পন্ন করতে শুরু করে। মশকীর প্রতিবার দংশনে Plasmodium vivax এর অন্তত: ৬টি, এবং Plasmodium falciparum এর অন্তত: ১২টি গ্যামিটোসাইট মশকীর দেহে প্রবেশ করে। যাদের রক্তে পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্যামিটোসাইট থাকে তাদের সক্রিয় এবং যাদের রক্তে গ্যামিটোসাইটগুলো কোনো এক সময় কার্যকর হচ্ছে এমন অবস্থায় থাকে তাদের বাহক বলে। রক্তপান করার সময় মশকীর দেহে বিভিন্ন দশার জীবাণু প্রবেশ করলেও একমাত্র গ্যামিটোসাইটগুলো বেঁচে থাকে, অন্যান্য দশায় জীবাণুগুলো মশকীর এনজাইমের ক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে যায় না। গ্যামিটোসাইটগুলো গ্যামিটোগনি ও স্পোরোগনি ধাপের মাধ্যমে অবশেষে স্পোরোজয়েট উৎপন্ন করে মশকীর লালাগ্রন্থিতে অবস্থান করে। এ মশকী কোনো মানুষকে দংশন করলে মানুষ এ জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। এভাবে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে এবং ম্যালেরিয়া জন-জনান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের অনুজীব অর্থাৎ Plasmodium এর বিস্তার বাহক নির্ভর। কেননা বাহক Anopheles মশকীর ওপর ই এ রোগের বিস্তার নির্ভরশীল।
HSC Biology 1st Paper Chapter 4: অণুজীব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 4: অণুজীব · সৃজনশীল
উদ্দীপকের অনুজীবটির বিস্তার বাহক নির্ভর উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
ঢাকা কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
১। ট্রোফোজরেট:
মাইক্রোমেটাক্রিপ্টো মেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকার অভ্যন্তরে হিমোগ্লোবিন ভক্ষণ করে আকারে বড়ো ও গোলাকার হয়। এক নিউক্লিয়াসযুক্ত পরজীবীর এ দশাকে ট্রোফোজয়েট বলে। এ অবস্থায় জীবাণুর দেহে ক্ষুদ্র একটি কোষগহ্বর দেখা যায়। এটি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী দশা।
২। সিগনেট রিং:
লোহিত কণিকার অভ্যন্তরে খাদ্য গ্রহণ করে বৃদ্ধি লাভের সাথে সাথে ট্রোফোজয়েট- এর কেন্দ্রীয় অঞ্চলে একটি গহ্বর সৃষ্টি হয়। ফলে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একপাশে সরে যায়। এ অবস্থায় পরজীবীটিকে একটি পাথর বসানো আংটির মতো মনে হয়। এ অবস্থাকে সিগনেট রিং বলে।
৩। অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট (Amoeboid trophozoite):
প্রায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে পরজীবীর অভ্যস্থ গহ্বরটি অদৃশ্য হয়ে যায় এবং পরজীবীটি ক্ষণপদবিশিষ্ট অ্যামিবার আকৃতি ধারণ করে। তাই একে অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট বলে। ট্রোফোজয়েট হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন উপাদানকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং বিষাক্ত হিমোজয়েন তৈরি করে। এ সময় লোহিত কণিকাটি আকারে বড়ো হয় এবং এদের সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাফনার্স দানা দেখা যায়।
৪। সাইজন্ট:
অ্যামিবয়েড ট্রোফোজয়েট-এর ক্ষণপদ ক্রমে বিলীন হয়ে যায় এবং পরজীবীটি গোলাকার রূপ ধারণ করে। অতঃপর এর নিউক্লিয়াস অযৌন পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে ১২-২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এরকম বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত পরজীবীকে সাইজন্ট বলে।
৫। মেরোজয়েট:
সাইজন্ট দশার প্রতিটি নিউক্লিয়াস প্রায় 45 ঘণ্টা পর সাইটোপ্লাজম ও প্লাজমামেমব্রেনসহ বিভক্ত হয়ে ১২-১৮টি গোলাকার মেরোজয়েট পরিণত হয়।
মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয় যাকে রোজেট দশা বলে। মেরোজয়েটগুলো লোহিত কণিকার আবরণ ভেঙ্গে প্লাজমায় যুক্ত হয় এবং নতুন লোহিত কণিকা আক্রমণ করে পুনরাবৃত্তি ঘটায়। একটি সম্পূর্ণ এরিথ্রোসাইটিক চক্র সম্পন্ন করতে Plasmodium vivax এর ৪৮ ঘন্টা সময় লাগে। প্রতি পুনরাবৃত্তি হয় অসংখ্য মেরোক্টারেট প্রাজমায় মুক্ত হওয়ার কারণে আক্রান্তের দেহে কাঁপুনিসহ জ্বর আসে।
৬। গ্যামিটোসাইট গঠন:
এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রে উৎপন্ন কিছুসংখ্যক মেরোজয়েট, ট্রোফোজয়েট এবং সাইজন্টে পরিণত না হয়ে লোহিত রক্ত কণিকার অভ্যন্তরে রূপান্তরিত হয়ে গ্যামিটোসাইট
গঠন করে।উত্তর