পরজীবীর আক্রমণে মেরুদণ্ডী প্রাণীতে প্রকাশিত লক্ষণগুলো X চক্রের আলোকে চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের পরজীবীটি মূলত ম্যালেরিয়ার জীবাণু Plasmodium যেটি মানব দেহের লোহিত রক্ত কণিকায় X-চক্র তথা এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্র সম্পন্ন করে। এ পরজীবীটির আক্রমণে মেরুদণ্ডী প্রাণীর লোহিত কণিকায় ধারাবাহিকভাবে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়, যেমন- ট্রফোজয়েট, সিগনেট রিং, অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট, সাইজন্ট, মেরোজয়েট, গ্যামেটোসাইট ইত্যাদি। নিচে চিত্রসহ X-চক্রের ব্যাখ্যা করা হলো- ট্রফোজয়েট: লোহিত কণিকার অভ্যন্তরে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট হিমোগ্লোবিনকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে আকারে বড় ও গোল হয়ে ট্রফোজয়েট পরিণত হয়। [চিত্র] সিগনেট রিংঃ এ সময় ট্রফোজয়েটের কেন্দ্রে একটি গহ্বর উৎপন্ন হয় ও আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে যে রিং এর মতো আকৃতি দেখায় তাকে সিগনেট রিং বলে। অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট: সিগনেট রিং ৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যামিবার ন্যায় অনিয়মিত ক্ষণপদযুক্ত অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েটে পরিণত হয়। ট্রফোজয়েট হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন উপাদানকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং বিষাক্ত হিমোজয়েন উৎপন্ন করে। হিমোজয়েন রক্ত রসে মিশে যায় ও কোষের উপর বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। একই সাথে মেরোজোয়েটগুলো ধ্বংস করার জন্য শ্বেতকণিকা অতিরিক্ত পাইরোজেন নামক বিষাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে। এর ফলে রোগীর দেহে প্রচন্ড কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এই দশাতে সাফনার্স দানা তৈরি হয়। রক্তকণিকায় সাফনার্স দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়। সাইজন্ট: কিছু সময় পর ক্ষণপদযুক্ত ট্রফোজয়েট বিলুপ্ত হয় ও জীবাণু গোলাকার সাইজন্টে পরিণত হয়। মেরোজয়েট : পরিণত সাইজন্টে ৪৫ ঘণ্টা পর বহুবিভাজন ঘটে ১২- ১৮টি গোল বা ডিম্বাকার মেরোজয়েট সৃষ্টি করে। মেরোজয়েট পরিণত হলে রক্তকণিকার আবরণ বিদীর্ণ করে রক্তরসে এসে নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে। ফলে ম্যালেরিয়া রোগীর দেহে অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকা বিনষ্ট হয় ও রোগী রক্তহীনতায় ভোগে। গ্যামেটোসাইট: এই পর্যায়ে উৎপন্ন মুক্ত মেরোজয়েটগুলোর কিছু সংখ্যক মেরোজয়েট অনেক সময় লোহিত রক্তকিণকাকে আক্রমণ না করে গ্যামেটোসাইট গঠন করে। গ্যামেটোসাইটগুলো মশকীর দংশনের মাধ্যমে মানবদেহ হতে মশকীদেহে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্যামেটোসাইট এর পরবর্তী পরিস্ফুটন ঘটে। মানুষের রক্তে গ্যামেটোসাইটগুলো ৭ দিনের বেশি বাঁচে না।
HSC Biology 1st Paper Chapter 4: অণুজীব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 4: অণুজীব · সৃজনশীল
পরজীবীর আক্রমণে মেরুদণ্ডী প্রাণীতে প্রকাশিত লক্ষণগুলো X চক্রের আলোক…
উদ্দীপক

নটরডেম কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
মশকীর গ্রুপের অভ্যন্তরে গ্যামিট সৃষ্টির মাধ্যমে ম্যালেরিয়া জীবাণুর যৌন জনন সম্পন্ন হয়। একে বলা হয় গ্যামিটোগনি। মশকীর গ্রুপের অভ্যন্তরে এই গ্যামিটোগনি কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপে ঘটে। যথা-
জননকোষ সৃষ্টি বা গ্যামিটোজেনেসিস : এটি দু ধরনের-
স্পার্মিওজেনেসিস: মাইক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে মাইক্রোগ্যামিট বা শুক্রাণু গঠন প্রক্রিয়াকে স্পার্মিওজেনেসিস বলে।
উওজেনেসিস: ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে ম্যাক্রোগ্যামিট বা ডিম্বাণু গঠন প্রক্রিয়াকে উওজেনেসিস বলে।
নিষেক ও জাইগোট গঠন: এ ধাপে মুক্ত মাইক্রোগ্যামিটগুলো পৃথক পৃথকভাবে ম্যাক্রোগ্যামিটের বা ডিম্বাণুর নিষেক অঙ্গের দিকে অগ্রসর হয়। প্রতিটি ডিম্বাণুতে একটি করে শুক্রাণু প্রবেশ করে এবং নিষেক সম্পন্ন হয়ে গোলাকার নিশ্চল জাইগোট হয়।
উওকিনেট গঠন: জাইগোট এরপর সচল হয় এবং কিছুটা লম্বাকৃতি ধারণ করে উওকিনেটে পরিণত হয়। উওকিনেট গ্রুপের অন্তঃপ্রাচীর ভেদ করে প্রাচীরের বাইরের গায়ে সংলগ্ন হয় এবং সিস্ট প্রাচীর দ্বারা আবৃত হয়ে গোলাকার উওসিস্টে পরিণত হয়। উওসিস্টে পরিণত হতে ১০-২০ দিন সময় লাগে।উত্তর
সিগনেট রিংঃ এ সময় ট্রফোজয়েটের কেন্দ্রে একটি গহ্বর উৎপন্ন হয় ও আকারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে যে রিং এর মতো আকৃতি দেখায় তাকে সিগনেট রিং বলে।
অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট: সিগনেট রিং ৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যামিবার ন্যায় অনিয়মিত ক্ষণপদযুক্ত অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েটে পরিণত হয়। ট্রফোজয়েট হিমোগ্লোবিনের প্রোটিন উপাদানকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং বিষাক্ত হিমোজয়েন উৎপন্ন করে। হিমোজয়েন রক্ত রসে মিশে যায় ও কোষের উপর বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
একই সাথে মেরোজোয়েটগুলো ধ্বংস করার জন্য শ্বেতকণিকা অতিরিক্ত পাইরোজেন নামক বিষাক্ত পদার্থ ক্ষরণ করে। এর ফলে রোগীর দেহে প্রচন্ড কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এই দশাতে সাফনার্স দানা তৈরি হয়। রক্তকণিকায় সাফনার্স দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়।
সাইজন্ট: কিছু সময় পর ক্ষণপদযুক্ত ট্রফোজয়েট বিলুপ্ত হয় ও জীবাণু গোলাকার সাইজন্টে পরিণত হয়।
মেরোজয়েট : পরিণত সাইজন্টে ৪৫ ঘণ্টা পর বহুবিভাজন ঘটে ১২- ১৮টি গোল বা ডিম্বাকার মেরোজয়েট সৃষ্টি করে। মেরোজয়েট পরিণত হলে রক্তকণিকার আবরণ বিদীর্ণ করে রক্তরসে এসে নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে। ফলে ম্যালেরিয়া রোগীর দেহে অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকা বিনষ্ট হয় ও রোগী রক্তহীনতায় ভোগে।
গ্যামেটোসাইট: এই পর্যায়ে উৎপন্ন মুক্ত মেরোজয়েটগুলোর কিছু সংখ্যক মেরোজয়েট অনেক সময় লোহিত রক্তকিণকাকে আক্রমণ না করে গ্যামেটোসাইট গঠন করে। গ্যামেটোসাইটগুলো মশকীর দংশনের মাধ্যমে মানবদেহ হতে মশকীদেহে প্রবেশ করে এবং সেখানে গ্যামেটোসাইট এর পরবর্তী পরিস্ফুটন ঘটে। মানুষের রক্তে গ্যামেটোসাইটগুলো ৭ দিনের বেশি বাঁচে না।