উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটির অমেরুদণ্ডী পোষকে যে জনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকে অমেরুদণ্ডী পোষকে অর্থাৎ মশকীর মধ্য যে জনন হয় তার বিস্তারিত দেয়া হল : মশকীর ক্রুপের অভ্যন্তরে গ্যামিট সৃষ্টির মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর যৌন জননকে গ্যামিটোগনি বলে। গ্যামিটোগনি কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপে ঘটে। যথা: ১। জননকোষ সৃষ্টি বা গ্যামিটোজেনেসিস : গ্যামিটোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা- (ক) স্পার্মাটোজেনেসিস এবং (খ) উওজেনেসিস। (ক) স্পার্মাটোজেনেসিস: মাইক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে মাইক্রোগ্যামিট বা শুক্রাণু বা পুংজনন কোষ গঠন প্রক্রিয়াকে স্পার্মাটোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়া কয়েকটি উপধাপে ঘটে। যথা: (i) প্রথমে মাইক্রোগ্যামিটোসাইটের হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভক্ত হয়ে ৪ ৮টি ক্ষুদ্রাকার হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ সময় জীবাণু কয়েকটি কোণা (৪-৮টা) বিশিষ্ট হয়। (ii) প্রতিটি কোণার মধ্যে একটি করে ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস প্রবেশ করে এবং নিউক্লিয়াসের চারদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়। এদেরকে সাইটোপ্লাজমীয় অভিক্ষেপ বলে। হয় (iii) এর পরপরই জীবাণুর দেহটি কতগুলো ফ্ল্যাজেলা আকৃতির সরু মাকুর মতো মাইক্রোগ্যামিট বা শুক্রাণুতে পরিণত হয়।ক্রপের গহ্বরে তাপের তারতম্যের দরুন এই প্রক্রিয়া ঘটে।। ক্রপের গহ্বরে ম্যালেরিয়া জীবাণুর স্পার্মাটোজেনেসিসের এ বিশেষ প্রক্রিয়াকে এক্সফ্ল্যাজেলেশন বলে। (iv) মাইক্রোগ্যামিটগুলো প্রথমে একসাথে থাকে, পরে এরা মাতৃকোষ থেকে এক্সফ্ল্যাজেলেশন প্রক্রিয়ায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার জন্য সাঁতার কাটতে থাকে। (খ) উওজেনেসিস = ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে ম্যাক্রোগ্যামিট বা ডিম্বাণু বা স্ত্রীজননকোষ গঠন প্রক্রিয়াকে উওজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়া কয়েকটি উপধাপে ঘটে। যথা- (i) প্রথমে প্রতিটি ম্যাক্রোগ্যামিটোসাইট-এর হ্যাপ্লয়েড (n) নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয় ও একটি করে সক্রিয় গোলাকার ম্যাক্রোগ্যামিটে বা ডিম্বাণুতে পরিণত হয়। এ ছাড়া পোলার বডি নামক আর একটি কোষের আবির্ভাব ঘটলেও শীঘ্রই তা নষ্ট হয়ে যায়। (ii) এর পরপরই ম্যাক্রোগ্যামিটের একপ্রান্ত কিছুটা উঁচু হয়ে ওঠে। এ অঞ্চলকে নিষেক শঙ্কু/কোণ বা অভ্যর্থনা শঙ্কু বলে। ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস এ শঙ্কুর কাছে অবস্থান করে। ২। নিষেক ও জাইগোট গঠন (Fertilization and the formation of zygote) : মুক্ত মাইক্রোগ্যামিটগুলো এরপর পৃথক পৃথকভাবে ম্যাক্রোগ্যামিটের বা ডিম্বাণুর নিষেক শঙ্কুর দিকে অগ্রসর হয় এবং প্রতিটা ডিম্বাণুতে একটি করে শুক্রাণু প্রবেশ করে এবং নিষেক সম্পন্ন করে। নিষিক্ত ডিম্বাণু হতে পরে গোলাকার জাইগোট (ডিপ্লয়েড) গঠিত হয়। ৩। উওকিনেট গঠন: মশকী রক্ত শোষণের ১২-১৪ ঘণ্টা পর গোল ও নিশ্চল জাইগোটটি সচল হয় এবং কিছুটা কীটের মতো লম্বাকৃতি ধারণ করে উওকিনেট (Ookinete)-এ পরিণত হয়। এগুলো লম্বায় ১৮-২৪ mu এবং প্রস্থে ৩-৫ [গণিত] ।
HSC Biology 1st Paper Chapter 4: অণুজীব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 4: অণুজীব · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবাণুটির অমেরুদণ্ডী পোষকে যে জনন প্রক্রিয়া সম্প…
উদ্দীপক
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর