উদ্দীপকের আলোকে বড় ভাই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। যা প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরী।
উদ্দীপকের আলোকে, বড় ভাই জ্বরে আক্রান্ত এবং রক্তে প্লাটিলেট কমে গিয়েছে। তিনি ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত যা বিশ্বের প্রাচীনতম মশকী বাহিত জ্বর রোগ। এ রোগে রক্তের লোহিত কণিকা ধ্বংস হয় এবং রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আমাদের করণীয় নিম্নে দেওয়া হল:
(ক) মশকী নিধন: নিম্নলিখিত পন্থায় এদের বিস্তার রোধ করা সম্ভব:
১. জননক্ষেত্র নির্মূলকরণ: মশকী বন্ধ, পচা পানিতে ডিম পাড়ে এবং সেখানে ডিম ফুটে লার্ভা ও পিউপা দশার বিকাশ ঘটে। নিম্নোক্ত উপায়ে এ কাজ করা যায়: ডোবা, নালা ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় গর্ত মাটি দিয়ে ভরাট করা উচিত যাতে ঐসব স্থানে পানি জমতে না পারে। উন্মুক্ত নর্দমাগুলো ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা এবং নর্দমাগুলো যাতে পানি বদ্ধ না থাকে সে দিকে নজর দেয়া। বাড়ির আশেপাশের ঝোপ-ঝাড় ও জঙ্গল কেটে ফেলা। লোকালয়ের আশেপাশে যাতে পানি আবদ্ধ হয়ে না থাকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়া।
২. লার্ভা ও পিউপা ধ্বংসসাধন: যেসব জলাশয়ে মশকী ডিম পাড়ে সেখানে পানির উপর কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় তেল ছিটিয়ে দিতে হবে। ফলে এ স্তর ভেদ করে মশকীর লার্ভাগুলোর মারা পড়ে। বিএইচসি, ডায়েলড্রিন ইত্যাদি কীটনাশক ওষুধ তেলের সাথে মিশিয়ে পানিতে ছিটিয়ে দিলে মশকীর লার্ভা ও পিউপা মারা যায়। জলাশয়ে কই, খলসে, তেলাপিয়া জাতীয় লার্ভা খাদক মাছ চাষের মাধ্যমে মশকীর লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করা যায়। জুভেনাইল হরমোন পানিতে মিশিয়ে দিয়ে লার্ভাকে আজীবন লার্ভা করে রেখে দেয়া যায়।
৩. পূর্ণাঙ্গ মশকী নিধন:
- দংশন উদ্যত মশকী হাত দিয়ে মেরে ফেলা যায়।
-বিভিন্ন ফাঁদের সাহায্যে মশকী ধরে মেরে ফেলতে হবে।
-সালফার ডাই-অক্সাইডের সাহায্যে ধোঁয়া মশা তাড়াতে বা মেরে ফেলা যায়।
-বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও বিকিরণ দিয়ে বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
(খ) মশকীর দংশনের হাতআত্মরক্ষা থেকে
-শয়নকক্ষে মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- দেহের অনাবৃত অংশে বিশেষক্রিম বা লোশন লাগাতে হবে।
-মশকী নিধন কয়েল জ্বালিয়ে মশা তাড়ানো যায়।
-ঘরের দরজা জানালায় ঘন তারের নেট লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। শয়নকক্ষ থেকে গোয়ালঘর দূরে করতে হবে।
(গ) ম্যালেরিয়াগ্রস্ত রোগীর চিকিৎসা:
ম্যালেরিয়া রোগাক্রান্ত রোগীকে সর্বদা মশারির মধ্যে রাখতে হবে। রোগীকে যেন কোনভাবেই মশা দংশন করতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্লোরোকুইন, নিভাকুইন, ম্যাপাক্রিন, প্যালড্রিন ইত্যাদি ম্যালেরিয়া পরজীবী ধ্বংসের ভালো ওষুধ।
এ সকল জনসচেতনতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।