'B [গণিত] এর দেহে 'A [গণিত] এর সংখ্যাবৃদ্ধি কীভাবে ঘটে? বর্ণনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের ছবিটিতে b এর দেহে a এর আক্রমণ তথা ব্যাকটেরিয়ার দেহে ভাইরাসের আক্রমণ বা ব্যাকটেরিওফায-এর জন্ম ও সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে । নিম্নে এই সম্পর্কে লেখা হল। ব্যাকটেরিওফায-এর সংখ্যাবৃদ্ধি দু'ভাবে ঘটে থাকে; যথা- (ক) লাইটিক চক্র বা ভাইরুলেন্ট চক্র এবং (খ) লাইসোজেনিক চক্র বা টেমপারেট দশা। T সিরিজভুক্ত ফায অর্থাৎ T3, T4, T., ইত্যাদিতে লাইটিক চক্র ঘটে এবং ল্যামডা ফায ( [গণিত] −ফায), P1 ফায, M13 ফায এ লাইসোজেনিক চক্র সম্পন্ন হয়। নিচে এ দু'ধরনের সংখ্যাবৃদ্ধি প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো: (ক) লাইটিক চক্র (Lytic cycle) : যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাস পোষক ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পন্ন করে এবং অপত্য ভাইরাসগুলো পোষক দেহের বিদারণ ঘটিয়ে নির্গত হয় তাকে লাইটিক চক্র বা বিগলনকারী চক্র বলে। লাইটিক চক্রের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৩০০টি নতুন ফায সৃষ্টি হয়ে থাকে। নির্গত নতুন ফায নতুন পোষক কোষে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।E. coli নামক ব্যাকটেরিয়া কোষে T, ব্যাকটেরিওফাযের লাইটিক চক্র নিম্নলিখিত ধাপসমূহে সংঘটিত হয়। ধাপ-১ : সংযুক্তি বা পৃষ্ঠলগ্নীভবন : E. coli ব্যাকটেরিয়ামের কোষ প্রাচীরে ফায প্রোটিনের জন্য রিসেপ্টর সাইট থাকে। যার প্রোটিনের সাথে ফায ক্যাপসিডের স্পর্শক তন্তুর প্রোটিনের রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে ব্যাকটেরিয়ামের প্রাচীরে t -ফায দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যায়। ধাপ-২: ফায DNA অণু প্রবেশঃ ব্যাকটেরিওফায়ের দণ্ডাকৃতি লেজটি সংকুচিত হয়ে বিশেষ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংযোগ স্থানের প্রাচীরে ছিদ্র তৈরি করে এবং ফায DNA কে E. coli ব্যাকটেরিয়ামের কোষ মেমব্রেন ভেদ করে সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করিয়ে দেয়। ধাপ-৩: প্রতিলিপন (Replication) ফায DNA পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর তার নিজস্ব প্রোমোটার সিকোয়েন্স দ্বারা পোষক কোষের RNA পলিমারেজকে আকৃষ্ট করে সেটা ব্যবহার করে ফায mRNA তৈরি করে। ফায mRNA পরে একটি বিশেষ প্রোটিন তৈরি করে যা E. coli DNA-কে খণ্ড বিখণ্ড করে নষ্ট করে দেয় এবং নিজের ইচ্ছেমতো নতুন ফায DNA প্রতিলিপন করে নেয় এবং ফায কোট প্রোটিন (coat protein) তৈরি করে। কোট প্রোটিন মাথা লম্বা লেজ, স্পর্শক তন্তু, স্পাইক ইত্যাদি অংশ হিসেবে পৃথক পৃথকভাবে তৈরি হয়। ধাপ-৪: বিভিন্ন দেহাংশ একত্রিত হওয়া (Assemble) পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রতিটি ফায় DNA এক একটি কোট প্রোটিনের মাথার অংশে প্রবেশ করে। পরে একে একে মাথার অংশের সাথে লেজ, লেজের শেষ প্রান্তে স্পর্শক অন্তু, স্পাইক ইত্যাদি সংযুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাকটেরিওফায হিসেবে গঠিত হয়। ধাপ-৫: নতুন ভাইরাস মুক্তি (Release) পোষক কোষের অভ্যন্তরে প্রচুর সংখ্যক ব্যাকটেরিওফায তৈরি হওয়ার পর একটি সুনির্দিষ্ট এনজাইম তৈরি করে যার প্রভাবে পোষক কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যায় এবং নতুন সৃষ্ট ব্যাকটেরিওফাযসমূহ মুক্তভাবে বেরিয়ে আসে। মুক্ত হওয়া প্রতিটি ফাষ একটি নতুন E. coli ব্যাকটেরিয়ামকে আক্রমণ করতে সক্ষম। (খ) যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশের পর ভাইরাল DNA-টি ব্যাক্টেরিয়াল DNA অণুর সঙ্গে সংযুক্ত হয় এবং ব্যাকটেরিয়াল DNA-র সঙ্গে একত্রিত হয়ে প্রতিলিপি গঠন করে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসরূপে ব্যাকটেরিয়া কোষের বিদারণ বা লাইসিস ঘটিয়ে মুক্ত হয় না তাকে লাইসোজেনিক চক্র বলে। ল্যামডা ফায ( [গণিত] −ফায), P1 ফায, M13 ফায ইত্যাদি ভাইরাস Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়া কোষে লাইসোজেনিক চক্র সম্পন্ন করে। এ ধরনের চক্রে ফায ভাইরাস পোষক কোষকে ধ্বংস না করেই সংখ্যাবৃদ্ধি করে থাকে। লাইসোজেনিক চক্রের ধাপগুলো নিম্নরূপ : ধাপ-১ পোষক ব্যাকটেরিয়ায় সংযুক্তি এবং ফায DNA-এর অনুপ্রবেশ: লাইটিক চক্রের মতোই প্রথমে ফায ভাইরাস পোষক কোষপ্রাচীরকে ছিদ্র করে DNA অণুকে পোষক কোষে প্রবিষ্ট করায় এবং শূন্য প্রোটিন আবরণটি পোষক কোষের বাইরে থেকে যায়। ধাপ-২। ব্যাকটেরিয়া DNA এর সঙ্গে ভাইরাস DNA এর সংযুক্তি: এ পর্যায়ে নিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যাকটেরিয়ার DNA-কে একটি জায়গায় কেটে ফেলে এবং এই কাটা স্থানে ইন্টিগ্রেজ এনজাইম এর প্রভাবে ফায DNA-টি গিয়ে সংযুক্ত হয়ে প্রোফায DNA (prophage) গঠন করে । এটি ব্যাকটেরিয়ায় সুপ্তাবস্থায় থাকে। ফায DNA সহ Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়া দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি বা বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এভাবে প্রতিটি অপত্য ব্যাকটেরিয়ায় ভাইরাস DNA-র একটি কপি সংযুক্ত হতে থাকে। এভাবেই B এর দেহে A আক্রমণ করে এবং সংক্যা বৃদ্ধি করে।
HSC Biology 1st Paper Chapter 4: অণুজীব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Biology 1st Paper · Chapter 4: অণুজীব · সৃজনশীল
'B এর দেহে 'A এর সংখ্যাবৃদ্ধি কীভাবে ঘটে? বর্ণনা কর।
উদ্দীপক

Dhaka · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর