উদ্দীপকের চিত্রে একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ দেখানো হয়েছে। এদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হলো:
একবীজপত্রী উদ্ভিদের তথা Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ:
১। Bambusa bambos (L.) Voss (বাঁশ)। উঁচু বৃক্ষবৎ আদি ঘাস। গৃহ নির্মাণ ও কাগজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
২। Oryza sativa L. (ধান) চাষ করা হয়। বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত আসে ধানের চাল থেকে। পৃথিবীর প্রায় (৬০% লোকের প্রধান খাদ্য ভাত। চিড়া, মুড়ি, পিঠা, পায়েস সবই আসে ধান বা চাল থেকে। খড় উঁচু মানের গো-খাদ্য ও ও হাঁস-মুরগির খাদ্য প্রস্তুত করা হয়।
৩। Triticum aestivum L (গম) চাষ করা হয়। আটা, সুজি, ময়দা ইত্যাদির জন্য চাষ করা হয়। রুটি, পরোটা, পাউরুটি, বিস্কুট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৪। Zea mays L. (ভুট্টা) চাষ করা হয়। ভুট্টা থেকে পপকন ও খইসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হয়।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ তথা Malvaceae গোত্রের গুরত্বপূর্ণ উদ্ভিদসমূহ:
১। জবা (Hibiscus rosa-sinensis Linn.):
জবার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। ফুলের জন্য একে বাগানে লাগানো হয়। জবা ফুলের রস মাথায় মাখলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে, চুল কালো ও লম্বা হয়। এর রস চুল পড়া বন্ধ করে, নতুন চুল জন্মায় ও চুল উজ্জ্বল করে। জবাকুসুম তেলের একটি উপাদান।
২। ঢেঁড়স (Abelmoschus esculentus Linn. Moench.):
ঢেঁড়স-এর প্রধান ব্যবহার সবজি হিসেবে। এটি স্যুপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এর ভেষজ গুরুত্বও আছে। কচি ঢেঁড়সে লৌহ বাকায় নিয়মিত খেলে শারীরিক দুর্বলতা সারে। এটি বহুমূত্র রোগেরও উপকার করে থাকে। ঢেঁড়স গাছ হতে ভালো আঁশ পাওয়া যায়।
৩। কার্পাস তুলা (Gossypium herbaceum Linn.):
এর বীজত্বক থেকে তুলা পাওয়া যায়। কার্পাস তুলার গুরুত্ব সুতা তৈরিতে। তুলা হতে সুতা হয়, সুতা হতে সুতি কাপড় তৈরি হয়। লেপ, তোষক তৈরিতেও কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। তুলা বীজ হতে ভোজ্য তেল আহরণ করা হয়। এছাড়া তুলা জীবাণুমুক্ত করে শৈল্য চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
৪। কেনাফ (Hibiscus cannabinus Linn.):
কেনাফ-এর বাকল থেকে পাট জাতীয় আঁশ পাওয়া যায়। এ আঁশ পাটের মতোই দড়ি, ব্যাগ, চট প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।