যা উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় গোত্রের উদ্ভিদটি হলো ধান গাছ যা Poaceae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। নিচে Poaceae গোত্রের উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব উল্লেখ করা হলো-
১. খাদ্যশস্য হিসেবে: Poaceae গোত্রের উদ্ভিদ যেমন- ধান, গম,, ভুট্টা, যব, জোয়ার, চিনা, কাউন, ওট প্রভৃতি খাদ্যশস্য হিসেবে মানুষের খাদ্যের যোগান দিয়ে থাকে।
২. গোখাদ্য হিসেবে: হাজার প্রজাতির ঘাস, যেমন- দূর্বাঘাস, কার্পেট ঘাস, ধানের পাতা, তৃণকান্ড ইত্যাদি গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. কাগজ বা শিল্পোৎপাদনে: বাঁশ, নলখাগড়া, আখের ছোবড়া, উলুখড় থেকে কাগজ তৈরি করা হয়। এছাড়া বাঁশ দ্বারা ফার্নিচার তৈরি হয়।
৪. গুড় ও চিনি তৈরিতে: চিনিকলে আখের রস থেকে চিনি ও গুড় তৈরি করা হয়। পৃথিবীর প্রধান চিনি উৎপাদনকারী উদ্ভিদ হচ্ছে আখ।
৫. প্রসাধনী শিল্পে: আদা ঘাস ও লেবুঘাস থেকে প্রাপ্ত সুগন্ধি তেল প্রসাধনী শিল্পে ও পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
৬. ভেষজ হিসেবে: আরগটের জন্য রাই গাছ চাষ করা হয়। আরগট উদ্ভিদ থেকে প্রস্তুত আরগট মিকশ্চার প্রসূতিদের জরায়ু সংকোচনের প্রতিষেধক হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। দূর্বাঘাস রক্তপাত বন্ধ করে।
৭. অ্যালকোহল তৈরিতে: চিনিকলের বর্জ্য চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল, মেথিলেটেড স্পিরিট এবং দেশি মদ তৈরি করা হয়।
৮. গৃহনির্মাণ সামগ্রী ও জ্বালানির উৎস: বাঁশ মানুষের গৃহনির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম উপাদান। এছাড়া ছন, ইকড়, কাশ ইত্যাদি-উদ্ভিদও গৃহনির্মাণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস ও বাঁশ গ্রামীণ জ্বালানির অন্যতম উৎস।
৯. সৌখিন বাগান তৈরিতে: সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বাগানের লনে বিভিন্ন প্রজাতির মাসকে সৌখিন উদ্ভিদ হিসেবে রোপন করা হয়।
১০. ভূমিধ্বস রোধক: কতিপয় প্রজাতির ঘাস রাস্তা ও বাঁধের মাটি ক্ষয় রোধকল্পে এবং সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য দু'পাশে লাগানো হয়।
১১. আসবাবপত্র তৈরিতে: বিভিন্ন জাতের বাঁশ আসবাবপত্র তৈরিতে ও কুটির শিল্পে ব্যবহৃত হয়।