উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় প্রাণিটি হলো রুইমাছ। রুই মাছ বাংলাদেশের অতি পরিচিত, সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় মাছ। এক সময় পাওয়া গেলেও এখন আর তা পাওয়া যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষি জমির প্রসার, জলাভূমি কেটে ভরাট, বাধ নির্মাণ, যত্রতত্র কীটনাশক ওষুধের ব্যবহার, পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ আহরণ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে রুইজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব কারণে বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশের রুই মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না। হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে রুই মাছ উৎপাদন করা হলেও তা প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন নয়৷ হ্যাচারিতে সীমিত ও নির্দিষ্ট মাছের মধ্যে আন্তঃপ্রজনন ঘটানোর ফলে রুই মাছের ভালো গুণাবলি হারিয়ে যাচ্ছে। জিনগত বৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে, রোগাক্রান্ত মাছের আধিক দেখা দিচ্ছে এবং স্বাদবিহীন মাছের প্রাচুর্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। হ্যাচারির মাছ কখনোই প্রাকৃতিক মাছের প্রতিনিধিত্ব করে না। এ অবস্থায় মাছের প্রাকৃতিক গুণাবলি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশে রুই মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরিবেশগত, প্রজাতিগত ও জিনগত বৈচিত্র্যের দিকে লক্ষ রেখে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
উপরের আলোচনার আলোকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, রুই মাছ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া অতীব জরুরী । যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রুই মাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে।