HSCBiology 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

Dinajpur · 2017
ক
স্পাইরাকল কী?
উত্তর
কঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়ালতন্ত্রের উন্মুক্ত ছিদ্রপথই হলো স্পাইরাকল।
খ
"পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রভুগ্রন্থি বলা হয়।"- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত মানবদেহের সকল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণকারী একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা অনেক। এসব হরমোন দেহের অন্যান্য অনেক হরমোন নিঃস্রাবী গ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য পিটুইটারিকে প্রভুগ্রন্থি বলা হয়।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত B অংশে খাদ্যের পরিপাকে পৌষ্টিক গ্রন্থির ভূমিকা বর্ণনা করো।
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত B অংশটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলির প্রাচীর পেশিবহুল এবং গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি সমৃদ্ধ। এসব গ্রন্থি পাকস্থলির পরিপাকের বিভিন্ন এনজাইম ও হরমোন ক্ষরণ করে।
গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি এক ধরনের নলাকার গ্রন্থি এবং তিন ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত। এদের মধ্যে প্যারাইটাল কোষ থেকে HCI, জাইমোজেনিক কোষ থেকে পেপসিনোজেন ও প্রোরেনিন এবং মিউকাস কোষ থেকে মিউকাস নিঃসৃত হয়। সম্মিলিতভাবে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থির ক্ষরণকে গ্যাস্ট্রিক জুস বলে। গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন এই জুস ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। পাকস্থলি থেকে শর্করাবিশ্লেষী কোনো এনজাইম নিঃসৃত হয় না। গ্যাস্ট্রিক জুসে পেপসিনোজেন এবং প্রোরেনিন নামক প্রোটিওলাইটিক এনজাইম থাকে। এ দুটি নিষ্ক্রিয় এনজাইম, যা HCI-এর সংস্পর্শে সক্রিয় হয়ে যথাক্রমে পেপসিন ও রেনিনে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষের আর্দ্র বিশ্লেষণ ঘটিয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন তৈরি করে। রেনিন দুধের আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে। এভাবে বিভিন্ন পৌষ্টিকগ্রন্থি পাকস্থলিতে খাদ্য পরিপাকে ভূমিকা রাখে।
ঘ
উদ্দীপকের C অংশে খাদ্যের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
উদ্দীপকের C অংশ হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। খাদ্যের অধিকাংশ উপাদান ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক ও শোষিত হয়। এখানে খাদ্যের উপর তিন ধরনের রস একসঙ্গে কাজ করে, যেমন- পিত্তরস, অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রস। পিত্তরস ক্ষারজাতীয় তরল পদার্থ। এতে কোন এনজাইম থাকে না। পিত্তরসের সোডিয়াম বাইকার্বনেট উপাদানটি পাকস্থলি থেকে আগত HCI-কে প্রশমিত করে ক্ষুদ্রান্তে ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। পিত্তরসের অবস্থিত পিত্তলবণের প্রভাবে চর্বি জাতীয় খাদ্যগুলো ভেঙ্গে অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।
অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, নিউক্লিয়েজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে। ট্রিপসিন আন্তিকরসের এন্টারোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে সক্রিয় হয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন নামক আমিষকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। কার্বোক্সিপেপটাইডেজ পলিপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
অ্যামাইলেজ স্টার্চকে ভেঙ্গে মন্টোজে পরিণত করে। অগ্ন্যাশয়িক লাইপেজ চর্বিকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। অন্ত্রের প্রাচীরে মিউকোসা স্তরের এককোষী গ্রন্থি থেকে আন্ত্রিক রস নিঃসৃত হয়। আন্ত্রিক রসের মধ্যে এন্টারোকাইনেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, অ্যামাইলেজ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম থাকে। এই এনজাইমগুলো জটিল খাদ্য উপাদানগুলোকে শোষণযোগ্য সরল এককে পরিণত করে।
পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্রান্তের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত অসংখ্য ক্ষুদ্র অভিক্ষেপ বা ভিলাই এর মাধ্যমে শর্করা, আমিষ, লিপিড শোষিত হয়। শর্করা, গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ হিসেবে এবং আমিষ, অ্যামিনো এসিড হিসেবে পোর্টাল শিরার মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে। চর্বির ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল কাইলোমাইক্রন গঠন করে ভিলাইয়ের লসিকা বাহিকায় শোষিত হয়।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো


