উদ্দীপকের তন্ত্রটি হলো পরিপাক তন্ত্র এবং পাতার ন্যায় গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয়। এটি খাদা পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত এনজাইম সবধরনের খাবার পরিপাকে সহায়তা করে। অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি । এটি একদিকে বহিঃক্ষরা , গ্রন্থি অপরদিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। নিচে পরিপাকতন্ত্রে অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর৷ হলো- খাদ্য পাকস্থলি থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার সময় ক্ষারীয় তরলরূপী (pH 8-8.3) অগ্ল্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়ের বহিঃক্ষরা অংশ থেকে দুধরনের ক্ষরণ মিলে অগ্ন্যাশয় রস গঠন করে, যেমন- পরিপাক এনজাইম এবং একটি ক্ষারীয় তরল। বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে বিভিন্ন ধরনের পরিপাককারী এনজাইম নিঃসৃত হয়। আমিষ, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাককারী এসব এনজাইমসমূহের পরিপাকে অংশগ্রহণের ধরন নিম্নরূপ :
১. আ্যামাইলেজ, মল্টেজ এনজাইম বিভিন্ন জটিল শর্করাকে ভেঙ্গে সরল শর্করা হিসেবে গ্লুকোজে পরিণত করে।
২. ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ, ডাইপেপটাইডেজ, কোলাজিনেজ, ইলাস্টেজ নামক এনজাইমগুলো আমিষ জাতীয় খাদ্যকে ভেঙ্গে সরল পেপটাইড ও আ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।
৩. লাইপেজ ও কোলেস্টেরল এস্টারেজ এনজাইম লিপিড জাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। পরিপাক সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও অগ্ন্যাশয় রস যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদন করে তা হলো-
১. অগ্ন্যাশয় রস অল্পক্ষারের সমতা রক্ষা করে।
২. অগ্ন্যাশয় রস দেহে পানির সাম্য রক্ষা করে।
৩. অগ্য্যাশয় রস দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে।