উদ্দীপকে উল্লেখিত “P” অঙ্গটি হলো যকৃত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। পরিপাকতন্ত্রে যকৃতের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো:
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক : যকৃত গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক : যকৃত ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪. তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃত কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে ।
৬. হরমোন ভাঙ্গন: যকৃত বিভিন্ন হরমোনের কর্মকাণ্ডে স্থায়ী অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে হরমোন ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া যকৃত লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন ও ভাঙ্গন, হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গন, কোলেস্টেরল উৎপাদন, পিত্ত উৎপাদন এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিপাকীয় ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয় : গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
2. রক্তসঞ্চয় : যকৃত রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি.সি. রক্ত এতে জমা থাকে। প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয় : যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K), পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ( B ও C), নিকো টিনিক এসিড (B12) এবং ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয় : শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো এসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. মিনারেল সঞ্চয় : যকৃত লৌহ ও পটাসিয়াম সঞ্চয় করে। লোহিত রক্তকণিকার ভাঙনে হিমোগ্লোবিন যকৃতের কাপফার কোষের মাধ্যমে হিম ও গ্লোবিন-এ পরিণত হয়। হিমের লৌহ অংশ ফেরিটিন হিসেবে যকৃতে জমা থাকে। এছাড়াও কপার, জিঙ্ক,কোবাল্ট ইত্যাদি মিনারেল স্বল্পমাত্রায় যকৃতে সঞ্চিত থাকে।