উদ্দীপকের A হলো যকৃত। খদ্য পরিপাকে যকৃতের ভূমিকা দেয়া হল: যকৃত শর্করা, আমিষ ও স্নেহবস্তু বিপাকের মাধ্যমে পরিপাকে সাহায্য করে। যকৃতে নিচে বর্ণিত বিপাকীয় কার্যাবলী সংঘটিত হয় ।
১. শর্করা বিপাক (Carbohydrate Metabolism) গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis) : অস্ত্র থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে চিনি (যেমন-গ্লুকোছা যকৃতে প্রবেশ করে। এ শিরাটি বিভিন্ন মাত্রায় চিনি বহনকারী একমাত্র রক্তবাহিকা। শর্করা বিপাকে দেহে গ্লুকোজ লেভেল প্রতি ১০০ ঘন সেন্টিমিটারে ৯০ মিলিগ্রাম গ্লুকোজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে । যে ধরনের খাবারই গ্রহণ করা হোক না কেন রক্তে গুকোজ লেভেল যেন না বাড়ে বা কমে, যকৃত তা প্রতিরোধ করে।গ্যালাক্টোজ, ফ্রুক্টোজসহ সমস্ত হেক্সোজ চিনিকে যকৃত গুকোজে পরিবর্তিত করে গ্রাইকোজেন) (glycogen) নামক অদ্রবণীয় পলিস্যাকারাইড হিসেবে জমা রাখে। গুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন রূপান্তর প্রক্রিয়াটিকে গ্লাইকোজেনেসিস বলে । প্রক্রিয়াটি ইনসুলিনের উপস্থিতিতে উদ্দীপ্ত হয় । ইনসুলিন (insulin) হচ্ছে রাজ চিনির লেভেল বেড়ে গেলে তার প্রতি সাড়া হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স (Islets of Langerhans) থেকে উৎপন্ন হরমোন ।
২. গ্লুকোনিয়োজেনেসিস (Gluconeogenesis) : যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অশর্করা জাতীয় বস্তু থেকে গ্লুকোজ শর্করা উৎপন্ন হয়, তাকে গ্লুকোনিয়োজেনেসিস বলে । এটি শর্করার উপচিতিমূলক বিপাক । এটি প্রধানত যকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়। দেহের চাহিদার প্রেক্ষিতে রক্তে গুকোজের মাত্রা অত্যধিক কমে গেলে যকৃত অ্যামিনো এসিড, ল্যাকটিক এসিড, পাইরুভিক এসিড, গ্লিসারল ইত্যাদি অশর্করা জাতীয় বন্ধ থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে প্রেরণ করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে।
গ্লাইকোজেনোলাইসিস (Glycogenolysis ) : রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লাইকোজেনোলাইসিস প্রক্রিয়ায় যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং রক্তে মিশে যায়। এ প্রক্রিয়াটি এপিনেফ্রিন ও গ্লুকাগন হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয় ।
লাইপোজেনেসিস (Lipogenesis) : রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি এমন পরিমাণ বেড়ে যায় যে তা শক্তি উৎপাদন ও গ্লাইকোজেন সঞ্চয় ক্ষমতার মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায় তখন ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ট্রাইগ্লিসারাইড -এ রূপান্তর করে। এ ট্রাইগ্লিসারাইড কোষে চর্বি হিসেবে সঞ্চিত হয়।
প্রোটিন বিপাক (Protein Metabolism) : প্রোটিন বিপাকে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
ডিঅ্যামিনেশন (Deamination) : কোন অ্যামিনো এসিড বা অন্য উপাদান থেকে অ্যামিনো গ্রুপের অপসারণ প্রক্রিয়াকে ডিঅ্যামিনেশন বলে।
হরমোন সংশ্লেষ (Synthesis of Hormone ) : যকৃত অ্যানজিওটেনসিনোজেন্ট (angiotensinogen) নামক হরমোন সংশ্লেষ করে যা বৃক্ক নিঃসৃত রেনিন (renin) এনজাইম দ্বারা সক্রিয় হয়ে দেহে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
৩. লিপিড (ফ্যাট) বিপাক (Lipid Metabolism) :
অস্ত্র থেকে শোষিত স্নেহ পদার্থ যকৃতে পৌঁছে চর্বিতে পরিণত হয় এবং সেখানে সঞ্চিত হয় ।
যকৃতে ফ্যাটের অক্সিজেন সংযোগে দহন বা অক্সিডেশনের ফলে ATP রূপে শক্তি উৎপন্ন হয় । কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড, লাইপোপ্রোটিন প্রভৃতি যকৃতে সংশ্লেষিত হয়