উদ্দীপকে খাদ্য পরিপাকে এনজাইম নয় হরমোন এর ভূমিকাও অপরিহার্য। খাদ্য পরিপাকে নানা ধরনের এনজাইম যেমন-টায়ালিন, মল্টেজ, পেপসিন রেনিন, ট্রিপসিন ইত্যাদি এনজাইম ভূমিকা রাখলেও এসব এনজাইমকে নিঃসৃত হতে উদ্দীপনা যোগায় এবং নিঃসরণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন ধরনের হরমোন। খাদ্য পরিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলো হলো-
১. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলির প্রাচীর হতে গ্যাস্ট্রিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে পাকস্থলির প্রাচীরে বিদ্যমান গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি হতে গ্যাস্ট্রিক রস এবং পাকস্থলির প্রাচীর হতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়।
২. সিক্রেটিন: অন্ত্রের প্রাচীর থেকে সিক্রেটিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। এছাড়া এটি পাকস্থলির প্রাচীরকে পেপসিন এনজাইম এবং যকৃতকে পিত্ত ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
৩. কোলেসিস্টোকাইনিন: ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর থেকে কোলেসিস্টোকাইনিন নামক হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের বৃদ্ধি ও বিকাশ এবং অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া এটি পিত্তথলি থেকে পিত্তরস বের হতে উদ্দীপনা প্রদান করে।
৪. এন্টেরোকাইনিন: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এন্টেরোকাইনিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এ হরমোনের প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীরে বিদ্যমান আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে মল্টেজ, সুক্রেজ, ইনভারটেজ ও ল্যাকটেজ এনজাইম নিঃসৃত হয়।
৫. পেপটাইড YY: ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এর প্রভাবে অন্ত্রের ভেতর দিয়ে ধীর গতিতে খাদ্য প্রবাহিত হয় যাতে দক্ষতার সাথে খাদ্যের পরিপাক ও শোষণ সম্পন্ন হয়।
৬. গ্যাস্ট্রিক ইনহ্যাবিটরি পেপটাইড: ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে এ হরমোন ক্ষরিত হয়। এটি পাকস্থলি থেকে খাদ্য অন্ত্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার পরিপেক্ষিতে এটাই প্রতিয়মান হয় যে, পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।