উদ্দীপকের স্বাস্থ্য জটিলতাটি হলো স্থূলতা। নিম্নে স্থূলতার কারণ ও প্রতিকার উল্লেখ করা হলো-
কারণ :
দৈহিক ওজনের ২০% বা তারও বেশি পরিমাণ মেদ দেহে সঞ্চিত হলে তাকে স্থূলতা বলা হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, কিন্তু পর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম না করাকে স্থূলতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, যতখানি ক্যালরি ব্যবহার করতে পারে তার চেয়ে বেশি ক্যালরির আহার গ্রহণ করাই হচ্ছে স্থূলতার মূল কারণ।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যের উপাদান শরীরে মেদ হিসেবে জমতে থাকে খাদ্যাভাসজনিত নানা কারণে ক্যালরি ও খাদ্যগ্রহণ বিষয়টি যেমন সবার ক্ষেত্রে এক নয়, তেমনি স্থূলতার কারণও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যেসব কারণকে স্থূলতার জন্য বিশেষভাবে দায়ী করেছেন সেসবের মধ্যে পরিবারের জীবনযাত্রার উপর স্থূলতা প্রকাশ অনেকখানি নির্ভর করে। তাছাড়া চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড (বার্গার, পিজা ইত্যাদি) ও চিকেন গ্রিল খাওয়ার ফলে ওজন দিন দিন বেড়ে যায় এবং শরীর মেদবহুল ও মোটা হয়।
প্রতিকার : স্থূলতা রোগের প্রধান চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ব্যায়াম। খাদ্যাভ্যাস কর্মসূচির ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ওজন হারানো সম্ভব। কিন্তু ঐভাবে ওজন কমানো সমস্যার কারণ হতে পারে তাই মাঝে মাঝে শারীরিক ব্যায়ামের প্রয়োজন পড়ে। শারীরিক সমস্যা সমাধানে যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে তা হলো-
১. সুষম খাবার পরিমিত মাত্রায় খাওয়া। অর্থাৎ সুষম খাবার অল্প অল্প করে কয়েকবার খাওয়া, পরিশ্রমের কাজ করা।
২. তেলযুক্ত, ফাস্টফুড খাবার কম খাওয়া।
৩. প্রতিদিন সকাল বিকালে হাঁটা, ব্যায়াম করা ও সাঁতার কাটা।
৪. কম ক্যালরি ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ফল, সবজি ও গোটা শস্য দানা গ্রহণ করা।
৫. নিয়মিত খেলাধুলা করা।
৬. শৈল্য চিকিৎসার মাধ্যমে বেলুন ব্যবহার করে পাকস্থলি ও অন্ত্রের আয়তন কমিয়ে আনা।
৭. চিকিৎসার পর আবার যেন স্থূলতা প্রত্যাবর্তনে সক্ষম না হয় সেজন্য নিয়মমাফিক সঠিকভাবে ব্যায়াম অব্যাহত রাখা।
৮. স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া।