উদ্দীপকের C অংশ হলো ক্ষুদ্রান্ত্র। খাদ্যের অধিকাংশ উপাদান ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক ও শোষিত হয়। এখানে খাদ্যের উপর তিন ধরনের রস একসঙ্গে কাজ করে, যেমন- পিত্তরস, অগ্ন্যাশয় রস ও আন্ত্রিক রস। পিত্তরস ক্ষারজাতীয় তরল পদার্থ। এতে কোন এনজাইম থাকে না। পিত্তরসের সোডিয়াম বাইকার্বনেট উপাদানটি পাকস্থলি থেকে আগত HCI-কে প্রশমিত করে ক্ষুদ্রান্তে ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। পিত্তরসের অবস্থিত পিত্তলবণের প্রভাবে চর্বি জাতীয় খাদ্যগুলো ভেঙ্গে অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ইমালসিফিকেশন বলে।
অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, কার্বোক্সিপেপটাইডেজ, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, নিউক্লিয়েজ ইত্যাদি এনজাইম থাকে। ট্রিপসিন আন্তিকরসের এন্টারোকাইনেজ এনজাইমের প্রভাবে সক্রিয় হয়ে প্রোটিওজ ও পেপটোন নামক আমিষকে ভেঙ্গে পলিপেপটাইডে পরিণত করে। কার্বোক্সিপেপটাইডেজ পলিপেপটাইডকে ভেঙ্গে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে।
অ্যামাইলেজ স্টার্চকে ভেঙ্গে মন্টোজে পরিণত করে। অগ্ন্যাশয়িক লাইপেজ চর্বিকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। অন্ত্রের প্রাচীরে মিউকোসা স্তরের এককোষী গ্রন্থি থেকে আন্ত্রিক রস নিঃসৃত হয়। আন্ত্রিক রসের মধ্যে এন্টারোকাইনেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, অ্যামাইলেজ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম থাকে। এই এনজাইমগুলো জটিল খাদ্য উপাদানগুলোকে শোষণযোগ্য সরল এককে পরিণত করে।
পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন হলে ক্ষুদ্রান্তের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত অসংখ্য ক্ষুদ্র অভিক্ষেপ বা ভিলাই এর মাধ্যমে শর্করা, আমিষ, লিপিড শোষিত হয়। শর্করা, গ্লুকোজ ও গ্যালাকটোজ হিসেবে এবং আমিষ, অ্যামিনো এসিড হিসেবে পোর্টাল শিরার মাধ্যমে রক্তে প্রবেশ করে। চর্বির ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল কাইলোমাইক্রন গঠন করে ভিলাইয়ের লসিকা বাহিকায় শোষিত হয়।