উদ্দীপকে কঙ্কালতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ সরল যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বা লিভারের ন্যায় কাজ করে।
লিভারের গঠন (Structure of Lever) একটি লিভার ৪টি অংশ দিয়ে গঠিত :
১. লিভার-বাহু (Lever arms) হাড়গুলো লিভার-বাহু হিসেবে কাজ করে;
২. পিভট (Pivot)- যে অস্থিসন্ধিকে কেন্দ্র করে লিভারের কাজ কর্ম পরিচালিত হয়;
৩. প্রচেষ্টা (Effort)- ভার সরানো বা নড়ানোর জন্য পেশি যে বল (force) সরবরাহ করে; এবং
৪. ভার (Load)- দেহের কোনো অংশের ওজন যা সরাতে হবে বা উঠাতে হবে কিংবা দেহের ভিতরে বা বাইরে নিতে হবে।
লিভারের প্রকারভেদ (Types of Lever) :
পিভট, প্রচেষ্টা ও ভার-এর অবস্থানের ভিত্তিতে লিভার নিচে বর্ণিত ৩ রকম।
১. প্রথম-শ্রেণির লিভার (First-class lever) : এ ধরনের লিভারে পিভটটি ভার ও প্রচেষ্টার মাঝখানে অবস্থান করে ।মানবদেহে প্রথম-শ্রেণি লিভার দুর্লভ । একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, মাথা ও প্রথম কশেরুকার মধ্যবর্তী সন্ধিটি । এক্ষেত্রে মাথার খুলি হচ্ছে লিভার-বাহু; খুলি ও প্রথম কশেরুকা (অ্যাটলাস)-র মধ্যকার সন্ধিটি পিভট; মাথার পিছনে অবস্থিত পেশি থেকে আসা পেশল ক্রিয়া হচ্ছে প্রচেষ্টা; এবং ভার হচ্ছে মাথার ওজন যা প্রচেষ্টার কর্মকান্ডে উঁচু হয়ে থাকে (ওজনের বিরুদ্ধে)। পেশি (প্রচেষ্টা) শিথিল হলে মাথা ঝুঁকে পড়ে। এ লিভারের মাধ্যমে অল্প বল প্রয়োগে বেশি ফল পাওয়া যায়।
২. দ্বিতীয়-শ্রেণির লিভার (Second-class lever) : এ ধরনের লিভারে ভারের অবস্থান থাকে পিভট ও প্রচেষ্টার মাঝখানে। পায়ের আঙ্গুলের ডগায় দাঁড়ালে দ্বিতীয় শ্রেণির লিজার সৃষ্টি হয়।
৩. তৃতীয় শ্রেণির লিভার (Third - class lever) : এ ধরনের লিভারের প্রচেষ্টা থাকে পিভট ও ভার-এর মাঝখানে । মানবদেহে তৃতীয়-শ্রেণির লিভারের সংখ্যা অনেক । একটি ভাঁজ করা বাহুকে তৃতীয়-শ্রেণির লিভার বলা যায় ।