উদ্দীপকে কঙ্কালতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এই তন্ত্রটি দৈহিক কাঠামো গঠন, চলনসহ নানাবিধ কাজ সম্পন্ন করে। নিচে এর কাজগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হল:
কঙ্কালতন্ত্রের কাজ :
ক. যান্ত্রিক কাজ (Mechanical functions)
১. দৈহিক কাঠামো গঠন : কঙ্কালতন্ত্র মানবদেহের কাঠামো গঠন ও নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে ।
২. সুরক্ষা : মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাদি যেমন মস্তিষ্ক, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, সুষুমাকাণ্ড প্রভৃতি বিশেষভাবে কঙ্কালে সুরক্ষিত থাকে ।
৩. সংযোগতল সৃষ্টি : দেহের অধিকাংশ পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডন কঙ্কালে সংযুক্ত থেকে বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায়
৪. চলন : অস্থিসন্ধি গঠন এবং পেশির সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কঙ্কালতন্ত্র মানুষের চলনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
৫. ভারবহন : পেশিসমূহ কঙ্কালের সাথে আটকে থেকে দেহের ভারবহন করে ।
খ. শারীরবৃত্তীয় কাজ (Physiological functions)
৬. রক্ত কণিকা উৎপাদন : পরিণত মানবদেহের রক্ত উৎপাদনকারী প্রধান টিস্যু হচ্ছে লাল অস্থিমজ্জা । স্টার্নাম, পাঁজর, কশেরুকা, করোটি এবং ফিমার ও হিউমেরাসের মস্তকে অবস্থিত অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত কণিকা উৎপন্ন হয় । অস্থিমজ্জা থেকে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ লোহিত কণিকা সৃষ্টি হয়। অবিরামভাবে লোহিত কণিকা উৎপাদন ছাড়াও লাল অস্থিমজ্জা অণুচক্রিকা উৎপন্ন করে এবং ম্যাক্রোফেজ ধারণ করে।
৭. নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও শ্রবণ : বক্ষপিঞ্জর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে এবং মধ্যকর্ণের কর্ণাস্থি শ্রবণে সহায়তা করে।
৮.রোগ প্রতিরোধ : অস্থির (রেটিক্যুলো এন্ডোথেলিয়ালতন্ত্র দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অংশ নেয়।
৯. খনিজ লবণ সঞ্চয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজনে রক্তে সরবরাহ করে।
১০. চাপ ও আয়নিক সমতা রক্ষা : দেহের অভ্যন্তরীণ চাপ নিয়ন্ত্রণে ও আয়নিক সমতা রক্ষায় অস্থিসমূহ কাজ করে।
১১. হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ : অস্থির কোষ থেকে অস্টিওক্যালসিন) (osteocalcin) নামক হরমোন ক্ষরিত হয় যা দেহে
রক্তের চিনি ও চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
১২. রাসায়নিক শক্তি : মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু লোহিত অস্থিমজ্জা পরিবর্তিত হয়ে পীত অস্থিমজ্জা (yellow bone marrow) গঠন করে । পীত অস্থিমজ্জায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাডিপোজ কোষ (adepose cell) থাকে যেগুলো দেহের সঞ্চিত রাসায়নিক শক্তির আধার হিসেবে ভূমিকা রাখে ।