উদ্দীপকের চিত্র-P হলো ঐচ্ছিক পেশি বা কঙ্কাল পেশি। নিচে ঐচ্ছিক পেশির গঠন বর্ণনা করা হলো-
ঐচ্ছিক পেশির কোষগুলো বা পেশিতন্তুগুলো গুচ্ছ আকারে অবস্থান করে। পেশিতন্তুর এ ধরনের প্রতিটি গুচ্ছকে ফ্যাসিকুলাস বলা হয়। এসব গুচ্ছ যোজক কলা নির্মিত পেরিমাইসিয়াম নামক আবরণে আবৃত থাকে। কতগুলো ফ্যাসিকুলি মিলিত হয়ে একটি বৃহৎ গুচ্ছ গঠন করে। যোজক কলা নির্মিত এপিমাইসিয়াম দ্বারা এসব গুচ্ছ আবৃত থাকে। প্রতিটি পেশিতন্তু নলাকার, অশাখান্বিত ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত। পেশিতন্তুর বা পেশি কোষের আবরণকে সারকোলেমা এবং সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। সারকোপ্লাজমে একাধিক গোলাকার বা ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসসহ প্রায় সকল কোষীয় অঙ্গাণুই উপস্থিত থাকে। এছাড়া সারকোপ্লাজমে মায়োফাইব্রিল নামক অসংখ্য অনুসূত্রক সমান্তরালভাবে সজ্জিত থাকে। প্রতিটি মায়োফাইব্রিল প্রধানত অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন ফিলামেন্ট দ্বারা গঠিত। অ্যাকটিন ফিলামেন্টে ট্রপোমায়োসিন ও ট্রপোনিন নামক দুটি প্রোটিন অণু যুক্ত হয়ে অ্যাকটিন ফিলামেন্ট কমপ্লেক্স গঠন করে। মায়োফাইব্রিলে অনুপ্রস্থ ও একান্তরভাবে সজ্জিত কতগুলো স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ বা গাঢ় দাগ দেখা যায়। স্বচ্ছ দাগগুলো । ব্যান্ড ও অস্বচ্ছ দাগগুলোকে "A" ব্যান্ড নামে চিহ্নিত করা হয়। অ্যাকটিন ও মায়োসিনের বিন্যাসের কারণেই মায়োফাইব্রিলে স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ ডোরা সৃষ্টি হয়। এসব ডোরা বা দাগের কারণেই ঐচ্ছিক পেশিকে অমসৃণ বা রৈখিক পেশি বলা হয়।