য উদ্দীপকে চিত্রে হৃদপেশিকে দেখানো হয়েছে। অন্য দুই প্রকার পেশি হলো ঐচ্ছিক পেশি ও অনৈচ্ছিক পেশি। নিচে হৃদপেশি, ঐচ্ছিক পেশি ও অনৈচ্ছিক পেশির গঠন ও কাজের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো-
গঠনগত তুলনা: হৃদপেশি শুধুমাত্র হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে থাকে। এর কোষগুলো শাখা-প্রশাখা যুক্ত এবং এদের মাঝে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে। এতে একটি নিউক্লিয়াস থাকে এবং এর গায়ে অনুপ্রস্থ রেখা বিদ্যমান। ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে সংযুক্ত থাকে। এদের কোষগুলো লম্বা, নলাকার ও শাখাবিহীন। প্রতিটি কোষে একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে এবং সুস্পষ্ট ডোরাকাটা দাগ বিদ্যমান। অন্যদিকে, অনৈচ্ছিক পেশি অভ্যন্তরীণ অঙ্গের যেমন পৌষ্টিকনালি, রক্তনালি প্রভৃতির প্রাচীরে থাকে। এদের কোষগুলো মাকু আকৃতির এবং প্রতিটি কোষে একটি মাত্র নিউক্লিয়াস থাকে। এতে কোনো ডোরাকাটা দাগ থাকে না, তাই এটি মসৃণ দেখায়।
কার্যগত তুলনা : হৃদপেশির প্রধান কাজ হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত পাম্প করা। এটি স্বয়ংক্রিয় ও অনৈচ্ছিক এবং জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে। ঐচ্ছিক পেশি আমাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করে। এদের প্রধান কাজ হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন। অন্যদিকে, অনৈচ্ছিক পেশি প্রাণীর ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। এসব পেশি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন খাদ্যনালি, রক্তনালি ইত্যাদির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। এদের সংকোচন সাধারণত ধীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।