উদ্দীপকে চিত্র-B এবং চিত্র-C দ্বারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির লিভারকে দেখানো হয়েছে। এই ধরনের লিভারের সাথে আমাদের শরীরের নড়াচড়া সম্পর্কযুক্ত। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার: এ ধরনের লিভারে ভারের অবস্থান থাকে পিভট ও প্রচেষ্টার মাঝখানে। ঠেলাগাড়ি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ঠেলাগাড়ির মেঝেয় যে মাল রাখা হয় সেটি ভার। এ অংশটি থাকে পিভটরূপী হুইল আর প্রচেষ্টারূপী ঠেলাচালকের হাতের মধ্যবর্তী স্থানে। পায়ের আঙ্গুলের ডগায় দাঁড়ালে দ্বিতীয় শ্রেণির লিভার সৃষ্টি হয়। তখন আঙ্গুলের সন্ধিগুলো হয় পিভট, দু'পা লিভার-বাহু, কাফ-পেশি ও গোড়ালির টেন্ডন প্রচেষ্টা এবং দেহের ওজন হচ্ছে ভার। এ ধরনের লিভারের সাহায্যে সামান্য প্রচেষ্টায় বেশি ওজনকে উপরে তুলে ধরা সহজ হয়।
তৃতীয় শ্রেণির লিভার: এ ধরনের লিভারের প্রচেষ্টা থাকে পিভট ও ভার-এর মাঝখানে। উদাহরণ হিসেবে নখ কাটার যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা যায়। মানবদেহে তৃতীয় শ্রেণির লিভারের সংখ্যা অনেক। একটি ভাঁজ করা বাহুকে তৃতীয় শ্রেণির লিভার বলা যায়। এ ক্ষেত্রে কনুইয়ে রয়েছে পিভট, সম্মুখ বাহু হচ্ছে লিভার-বাহু, বাইসেপস পেশি প্রচেষ্টার যোগান দেয়, আর সম্মুখ বাহু কিংবা কোনো ওজনদার বস্তুসহ সম্মুখ বাহু হচ্ছে ভার। তৃতীয় শ্রেণির লিভারে প্রচেষ্টার অবস্থান ভার ও পিভটের মাঝে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রচেষ্টা আর পিভট খুব কাছাকাছি অবস্থান করে। প্রচেষ্টার চেয়ে ভার বেশি হওয়ায় এ ক্ষেত্রে কোনো যান্ত্রিক সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে বাইসেপস পেশির সামান্য সংকোচনে সম্মুখ বাহুতে বৃহত্তর সঞ্চালনের সৃষ্টি হয় বলে যান্ত্রিক অসুবিধাটুকু পূরণ হয়ে যায়। দ্রুতগতির সঞ্চালন সুবিধা পাওয়া যায় এ ধরনের লিভার থেকে।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণির লিভারের সাথে আমাদের শরীরের নড়াচড়া সম্পর্কযুক্ত।