উদ্দীপকে উল্লিখিত ধারণার সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত যে, মানবদেহের হাত-পা সাধারণ মেশিনের মতো কাজ করে এবং সামান্য প্রচেষ্টায় আমরা অনেক কাজ সহজে করতে পারি। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
মানবদেহের অস্থি, পেশি এবং সন্ধিস্থলগুলো মিলে এক একটি লিভার সিস্টেম তৈরি করে। লিভারের নীতি অনুসারে, এই ব্যবস্থাগুলোতে একটি পিভট (Pivot) বা ফালক্রাম, একটি বল বা প্রচেষ্টা (effort) এবং একটি ভার (load) থাকে। মানুষের দেহে সন্ধিস্থলগুলো পিভট হিসেবে কাজ করে, পেশির সংকোচন বল বা প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোনো অংশের ওজন বা বাইরের কোনো বস্তুর ওজন ভার হিসেবে কাজ করে। যেমন, হাত - দিয়ে কোনো বস্তু তোলার সময় কনুইয়ের অস্থিসন্ধি পিভট, বাইসেপস পেশির টান প্রচেষ্টা এবং বস্তুর ওজন ভার হিসেবে কাজ করে। মানবদেহের এই লিভার সিস্টেম আমাদেরকে যান্ত্রিক সুবিধা - প্রদান করে। এর ফলে আমরা পেশি দ্বারা প্রয়োগকৃত বলের চেয়ে বেশি পরিমাণে ভার উত্তোলন করতে পারি। এই যান্ত্রিক ব্যবস্থাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কাজ, যেমন হাঁটা, দৌড়ানো, কোনো কিছু তোলা বা নিক্ষেপ করা ইত্যাদি সহজে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মানবদেহের পেশি এবং কঙ্কালতন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রম লিভার নীতি অনুসরণ করে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো সহজে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।