উদ্দীপকে উল্লেখিত দুই ধরনের তন্ত্র বলতে কঙ্কালতন্ত্র এবং পেশিতন্ত্র-কে বোঝানো হয়েছে। মানুষের চলন বা দেহ উপাঙ্গ সঞ্চালিত হওয়ার জন্য এই দুটি তন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রম অপরিহার্য।নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানবদেহের কঙ্কাল পেশি চলনে অংশগ্রহণ করে। এসব পেশির প্রান্তভাগ রূপান্তরিত হয়ে দৃঢ়, মজবুত ও স্থিতিস্থাপক টেনডনে পরিণত হয়। টেনডন অস্থির সাথে লেগে থেকে পেশির কাজ সম্পন্ন করে। মস্তিষ্ক থেকে একটি উত্তেজনা পেশিতে গেলে পেশি সংকুচিত হয়। এ সংকোচনের ফলে টেনডনে টান পড়ে এবং টেনডনের সাথে লাগানো অস্থিটির সঞ্চালন ঘটে। পেশিতে শুধু টান পড়ে কিন্তু কখনো ধাক্কা দেয় না। বিভিন্ন ধরনের চলনের জন্য একটি অস্থির বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো পেশি লাগানো থাকে। ফিমার অস্থিটির সাথে এরকম অনেকগুলো পেশি লাগানো থাকে। পেশিগুলো ফ্লেক্সর, এক্সটেনসর, অ্যাবডাক্টর, অ্যাডাক্টর নামে পরিচিত। ফ্লেক্সর পেশি অস্থিসন্ধিকে ভাঁজ করে, অপরদিকে এক্সটেনসর পেশি অস্থিসন্ধিকে প্রসারিত করে। অ্যাবডাক্টর পেশি অস্থিটিকে দেহ অক্ষের কাছে নিয়ে আসে। অর্থাৎ পেশিগুলো জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে এবং একটির কাজ অপরটির বিপরীত। এছাড়া আরেক ধরনের পেশি আছে যারা ফিমারকে ঘুরায়, যেমন- পিরিফর্মিস। এদেরকে রোটেটর পেশি বলে।
তাই বলা যায় যে, কঙ্কালতন্ত্র এবং পেশিতন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রমেই দেহ উপাঙ্গ সঞ্চালিত হয়।