মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন ধরনের পেশি কাজ করে। এ পেশিগুলো তিন ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি ও হৃদপেশি। এদের মধ্যে ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন তবে অনৈচ্ছিক ও হৃদপেশির সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
মানবদেহের যেসব কলা লম্বা, সরু, বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত ও রৈখিকভাবে বিন্যস্ত পেশি তন্তু দিয়ে গঠিত এবং যেগুলো মানুষের ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হতে পারে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বা কঙ্কাল পেশি বলা হয়। এসব পেশি টেনডন দ্বারা বিভিন্ন অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। চোখ, চিহ্বা, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি পাওয়া যায়। অন্যদিকে, যেসব পেশিকলার সংকোচন-প্রসারণ মানুষের ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের অনৈচ্ছিক পেশি বলে। পৌষ্টিকনালি, রক্তনালি, রেচননালি, শ্বাসনালি ইত্যাদির প্রাচীরে এ ধরনের পেশি থাকে। আবার, হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি পাওয়া যায়। এদের হৃদপেশি বলা হয়। এ ধরনের পেশি হৃৎপিণ্ডের অবিরাম সংকোচন ও প্রসারণে ভূমিকা পালন করে।