উদ্দীপকে বর্ণান্ধতার সমস্যার কথা বলা হয়েছে। বর্ণান্ধতা ছেলে সন্তানদেরই বেশি হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো।
মানুষের চোখের রেটিনায় বর্ণসংবেদী কোণ কোষ উৎপাদনের, জন্য একটি প্রকট X-লিংকড জিন প্রয়োজন। কোণ কোষ তিন ধরনের ৷ প্রত্যেকটি ধরন একেক বিশেষ রঙের প্রতি সংবেদনশীল। যেমন- লাল, সবুজ ও বেগুনি । এ জিনের প্রচ্ছন্ন আ্যালিল (অর্থাৎ বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী হচ্ছে X- লিংকড আ্যালিলের উপস্থিতি) বর্ণসংবেদী কোণ- কোষ উৎপাদনে, অক্ষম। হোমোজাইগাস নারী (cc) ও পুরুষ (cY) লাল ও সবুজ বর্ণের সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না। অর্থাৎ নারীর ক্ষেত্রে এ জিনটি হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন না হলে বর্ণান্ধতা প্রকাশ পায় না। কিন্তু পুরুষে একটি প্রচ্ছনন জিনই সে বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সক্ষম ।
বর্ণান্ধ পুরুষ ও স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন নারীর মধ্যে বিয়ে হলে F1 জনুর পুত্র বা কন্যা সবাই স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন হলেও কন্যাদের সবাই হবে বর্ণান্ধ জিনের বাহক এবং পরবর্তী বংশের অর্ধেকে এ জিন সঞ্চারিত হবে। F1 জনুর সন্তানদের অনুরূপ জিনোটাইপধারী (কারণ মানুষে ভাই-বোনের বিয়ে হয় না) স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন পুরুষের সাথে বর্ণাঙ্ধবাহক মহিলার বিয়ে হলে এঁ মহিলার চার সন্তানের মধ্যে দুজন স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন কন্যা (এদের মধ্যে এক কন্যা বর্ণাঙ্ধতার বাহক), একজন স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন পুত্র এবং একজন বর্ণান্ধ পুত্র জন্ম লাভ করবে।