উদ্দীপকের উদ্ধৃতি হলো- "স্তন্যপায়ী প্রাণীরা অভিন্ন পূর্বপুরুষের বংশধর।” উদ্ধৃতিটির সাথে আমি একমত।
প্রতিটি বহুকোষী প্রাণী একটি পুংজনন কোষ এবং একটি স্ত্রীজনন কোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট জাইগোট (একটি একক কোষ) থেকে পরিস্ফুটিত হয়। এই জাইগোট বিভাজিত হয়ে বহুকোষী প্রাণীর সৃষ্টি করে এবং এই বিভাজন সব প্রাণীতে একই রকম। যেসব পূর্ণাঙ্গ প্রাণী গঠনগত দিক থেকে সাদৃশ্যতা বহন করে, তাদের পরিস্ফুটন পদ্ধতিও অভিন্ন হয়। পরে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে পরিস্ফুটনের ফলে সৃষ্ট অঙ্গের পরিণতি ভিন্ন হয়। এ বিভিন্নতা অনেকটা গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তারের মতো অগ্রসর হতে থাকে। বিজ্ঞানী কার্ল ভন বেয়ার বিভিন্ন প্রাণীর ভূণতত্ত্ব নিয়ে পরীক্ষা করে বলেছেন যে, একটি জীবের আদি ইতিহাস থাকে তার ভূণ দশায়। মাছ, উভচর, সরিসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ীর ভূণগুলোকে প্রথম অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক করা যায় না। অর্থাৎ সবাই সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পরিস্ফুটনের পরবর্তী পর্যায়ে প্রত্যেক শ্রেণির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্ভূত হয়। একটি শিশু প্রাণীকে তার নিম্নস্তরের প্রাণিগোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ দশার মতো নয় বরং শিশু বা ভূণীয় দশার মতো দেখায়। তাই স্তন্যপায়ী প্রাণীর ভূণীয় দশা অন্যান্য প্রাণীর মতো। পরবর্তীতে এরা জটিল বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যগুলো চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করেছে।