উদ্দীপকে গর্ববতী মিনুর রক্তের গ্রুপ AB-ve এবং তার স্বামীর রক্তের গ্রুপ Rh+ve মিনুর সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে-
১. রক্ত সঞ্চালনে জটিলতা: Rh- - রক্তবিশিষ্ট ব্যতিক্রম রক্তে Rh- বিশিষ্ট রক্ত দিলে প্রথমবার গ্রহীতার দেহে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না, কিন্তু গ্রহীতার রক্তরসে ক্রমশ Rh+ আ্যান্টিজেনের বিপরীত আ্যান্টিবডি উৎপন্ন হবে। এই আ্যান্টিবডিকে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর বলে। গ্রহীতা যদি দ্বিতীয়বার দাতার Rh+ রক্ত গ্রহণ করে তা হলে গ্রহীতার রক্তরসের আ্যান্টি Rh ফ্যাক্টরের প্রভাবে দাতার লোহিত রক্তকণিকা জমাট বেঁধে পিন্ডে পরিণত হবে। তবে একবার সঞারণের পর যদি গ্রহীতা আর এ রক্ত গ্রহণ না করে তা হলে ধীরে ধীরে তার রক্তে উৎপন্ন সমস্ত আ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রহীতা স্বাভাবিক রক্ত ফিরে পায়।
২. গর্ভধারণজনিত জটিলতা: সন্তানসম্ভবা মহিলাদের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ। একজন (Rh- নেগেটিভ) মহিলার সঙ্গে (Rh+ পজেটিভ) পুরুষের বিয়ে হলে তাদের প্রথম সন্তান হয় Rh+, কারণ Rh+ একটি প্রকট বিশিষ্ট ৷ ভ্রণ অবস্থায় সন্তানের Rh+ ফ্যাক্টরযুক্ত লোহিত কণিকা অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্তে এসে পৌছাবে, ফলে মায়ের রক্ত Rh- হওয়ায় তার রক্তরসে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর (আ্যান্টিবডি) উৎপন্ন হবে। অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর মায়ের রক্ত থেকে অমরার মাধ্যমে ভ্রণের রক্তে প্রবেশ করলে ভ্রূণের লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে, ভ্রণও বিনষ্ট হয় এবং গর্ভপাত ঘটে । এ অবস্থায় শিশু জীবিত থাকলেও তার দেহে প্রচন্ড রক্তসল্পতা এবং জন্মের পর জন্ডিস রোগ দেখা দেয়। এ অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলে ।
যেহেতু Rh বিরোধী আ্যান্টিবডি মাতৃদেহে খুব ধীরে ধীরে উৎপন্ন হয় তাই প্রথম সন্তানের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সুস্থই জন্মায় । কিন্তু পরবর্তী গর্ভধারণ থেকে বিপত্তি শুরু হয় এবং ভ্রণ এ রোগে ভূগে মারা যায়। তাই বিয়ের আগে হবু বর-কনের রক্ত পরীক্ষা করে নেয়া উচিত এবং একই Rh ফ্যাক্টরভূক্ত দম্পত্তি হওয়া উচিৎ। তবে সুখের কথা এই যে, পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশে Rh- বৈশিষ্ট্য দুর্লভ ।