উদ্দীপকে উল্লেখিত শেষ লাইন অনুসারে বলা হয়েছে যে, কিছু যৌন ক্রোমোসোম অর্থাৎ X ও Y ক্রোমোসোম মানুষের রোগ বহন করে এবং এরা বংশানুক্রমের সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন, যা পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্সকে নির্দেশ করে। নিম্নে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-যেসব বংশগতীয় বাহ্যিক বা ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য ক্রোমোসোমের বিভিন্ন লোকাসে অবস্থিত দুইয়ের অধিক জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পরিমাপ দ্বারা যাদের মাত্রা নির্ণয় করা হয় তাদের বহুজিনীয় বংশগতি বা পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স বলে। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য মেন্ডেলের বংশগতিময় নিয়ম মেনে চলে না এবং জীবগোষ্ঠীতে এদের মাত্রা পরিমাপ করলে যে ফলাফল পাওয়া যায় তা লেখচিত্রে উপস্থাপন করলে একটি ঘন্টাকৃতির চিত্র পাওয়া যায়। মানুষের উচ্চতা, গাত্রবর্ণ, ওজন, চোখের বর্ণ, বুদ্ধিমত্তা ও আচরণ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য পলিজেনিক জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মানুষের অনেক বংশগতীয় রোগ পলিজেনিক জিনের অস্বাভাবিকতার কারণে সৃষ্টি হয়, যেমন-অটিজম, ক্যানসার, ডায়াবেটিস টাইপ-২ ইত্যাদি।
পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্সের বৈশিষ্ট্য হলো-
১. দুই বা ততোধিক জিন দ্বারা ফিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রিত হয়।
২. গণনার চেয়ে পরিমাপ দ্বারা এদের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।
৩. জীবের এ ধরনের বৈশিষ্ট্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কিছু যৌন ক্রোমোসোম মানুষের রোগ বহন করে এবং এরা বংশানুক্রমে সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।