উদ্দীপকে প্রকট এপ্রিস্ট্যাসিসকে নির্দেশ করা হয়েছে। যাতে মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম হিসেবে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩:৩ অনুপাতে পাওয়া যায়।একটি জিন যখন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন এ প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলে। যে জিনটি অপর জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয় সে জিনকে এপিস্ট্যাটিক জিন ও যে জিনটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা পায় তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে।
বেটসন ও পানেট পরিচালিত পরীক্ষায় আবিষ্কৃত হয় যে, সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডট মোরগ-মুরগির মধ্যে ক্রসে F1 জনুতে সব সাদা পালক বিশিষ্ট হয়। এক্ষেত্রে রঙিন পালক প্রকাশের জন্য প্রকট জিন (C) থাকলেও তা প্রকাশিত হতে পারে না এপিস্ট্যাটিক জিন (I) এর কারণে। কিন্তু F1 জনুর শাবকগুলোর মধ্যে ক্রসে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯:৩:৩:১ এর পরিবর্তে ১৩:৩ হয় যা মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে তা চেকার বোর্ডের সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হলো—
এক্ষেত্রে ওয়াইনডট মোরগ-মুরগির দেহে কোনো রঙিন পালকের প্রকট জিন না থাকায় তারা প্রাকৃতিকভাবেই সাদা হয়। কিন্তু লেগহর্ন জাতের মোরগ-মুরগিতে রঙিন পালকের প্রকট জিন (C) থাকে। কিন্তু এদের ক্রোমোসোমের অন্য একটি লোকাসে একটি বা দুটি এপিস্ট্যাটিক জিন (I) থাকায় রঙিন পালকের প্রকট জিন (C) দমিত থাকে। ফলে বর্ণ প্রকাশ ব্যাহত হয়। তাই সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডট মোরগ- মুরগির ক্রসের ফলে F1 জনুতে রঙিন পালক দেখা যায় না ।
উপরের বিশ্লেষণে বোঝা যায়, CCII জিনোটাইপধারী পিতা ও CCii জিনোটাইপধারী মাতার সাথে ক্রস করালে সকল অপত্য সাদা পাওয়া যায়।