উদ্দীপকের ঘটনাটি হলো দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিস যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম।
মেন্ডেলের ২য় সূত্র: দুই বা ততেধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবের মধ্যে ক্রস ঘটালে প্রথম সংকর পুরুষে কেবলমাত্র প্রকট বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পাবে। কিন্তু জননকোষ উৎপাদনকালে বৈশিষ্ট্যগুলো জোড়া ভেঙে পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র বা স্বাদীনভাবে বিন্যস্ত যা ভিন্ন ভিন্ন জননকোষে প্রবেশ করবে।
উক্ত সূত্রটি হলো ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র। এখানে দুই জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের পিতৃ ও মাতৃ উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস করালে প্রথম বংশধরে সকল জীব হয় প্রকট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। আর দ্বিতীয় বংশধরে 9:3:3:1 অনুপাতে অপত্য জীব পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে 9:3:3:1 অনুপাতে দ্বিতীয় বংশধর হওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে বন্টনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
অন্যদিকে দ্বৈত প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসে দুটি ভিন্ন লোকাসে অবস্থিত এপিস্ট্যাটিক প্রচ্ছন্ন জিন দায়ী। এ দুটি জিনের একটি যখন হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে তখন অন্য প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়। অর্থাৎ, উল্লেখিত দুজোড়া প্রচ্ছন্ন জিনের যেকোনো একজোড়া থাকলে এবং অন্য জোড়ায় প্রকট জিন থাকলেও যেকোনো ব্যক্তি জন্মগত মূকবধির হয়। এক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন জিন জোড় প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথম প্রজন্মের সকল শিশু স্বাভাবিক বাক-শ্রবণক্ষম হলেও দ্বিতীয় প্রজন্মের স্বাভাবিক ও মূকবধির শিশুর অনুপাত হয় 9:7, এটি দ্বারা স্বাধীনভাবে মিলন ও বন্টন ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যাতিক্রম।