উদ্দীপকে উল্লেখিত পাম্পযন্ত্রটি হলো মানব হৃৎপিণ্ড। বাইরের কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই রূপান্তরিত হৃদপেশির সাহায্যে হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণই হৃৎপিণ্ডের মায়োজেনিক নিয়ন্ত্রণ। হৃৎপিন্ডের এ নিয়ন্ত্রণে নোড ও পেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে হৃৎপিণ্ডের নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রকৃতপক্ষে এ নিয়ন্ত্রণ কিছু রূপান্তরিত হৃদপেশির মাধ্যমে সংকোচন প্রসারণ ঘটিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। এদেরকে সংযোগ টিস্যুও বলে। টিস্যুগুলো হলো সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN), অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড (AVN) ও পারকিনজি তন্তু।
SA Node ডান অলিন্দের প্রাচীরে, ডান অলিন্দ ও সুপিরিয়র ভেনাক্যাভার ছিদ্রের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ডান অলিন্দে বিদ্যমান SA Node বা পেসমেকার নামক কলা থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনা বা বৈদ্যুতিক সংকেত বা ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল অলিন্দের প্রাচীরে ছড়িয়ে গিয়ে অলিন্দের সংকোচন ঘটায়। SA Node কে পেসমেকার বলা হয় কারণ প্রতিটি উত্তেজনার ঢেউ এখানেই সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী উত্তেজনার ঢেউ সৃষ্টির উদ্দীপক হিসেবেও এটি কাজ করে।
আবার ডান অলিন্দের নিলয় প্রাচীরে বিদ্যমান AV Node কলা কর্তৃক অলিন্দের প্রাচীর থেকে হৃদ উদ্দীপনা বা ইলেকট্রিক সিগন্যাল পরোক্ষভাবে গৃহীত হয়। AV Node কে সংরক্ষিত পেসমেকার বলে।
কোনো কারণে SA Node ইলেকট্রিক সিগন্যাল সৃষ্টিতে ব্যর্থ হলে AV Node তা সৃষ্টি করে। আন্তঃনিলয় প্রাচীরে অবস্থিত বান্ডেল অব হিজ কলা কর্তৃক হৃদ উদ্দীপনা বা বৈদ্যুতিক সংকেত গৃহীত হয় এবং বান্ডল অব হিজ এর ডান ও বাম শাখা বরাবর প্রবাহিত হয়ে পার্কিনজি তন্তু এর মাধ্যমে নিলয়ের প্রাচীরে সঞ্চারিত হয়। এতে রক্তপূর্ণ নিলয়ের সংকোচন ঘটে।
অর্থাৎ উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রূপান্তরিত হৃদপেশির মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।