উদ্দীপকে উল্লেখিত শেষোক্ত উক্তিটি হলো সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজন অঙ্গটির অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
মানুষসহ সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঙ্কুচিত-প্রসারিত হয়ে সমগ্র দেহে রক্ত পরিচালনা করে। মানবদেহে প্রতি মিনিটে গড়ে 75 বার হৃৎচক্র বা হার্টবিট সম্পন্ন হয়। এতে প্রচু গতিতে দেহে রক্ত প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে বিদ্যমান SAN নামক বিশেষ ধরনের কলা থেকে বৈদ্যুতিক সংকেত বা ইলেকট্রিকেল সিগন্যাল সৃষ্টি হয়ে সমগ্র হৃৎপিন্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হৃৎচক্র সম্পন্ন হয়। SAN কে পেসমেকার নামে আখ্যায়িত করা হয়।
হৃৎপিণ্ডের অলিন্দে বিদ্যমান ও পেসমেকার বিরামহীনভাবে বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি করে হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখে। হৃৎপিণ্ড সক্রিয় রাখতে প্রতি মিনিটে 1-5 ওয়াট বিদ্যুৎ সমপরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়। কোনো কারণে এ পেসমেকার কাজ না করলে ত্রুটিযুক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি হয় এবং হার্টবিটের ছন্দোপতন ঘটে। এসময় হার্টবিট খুব দ্রুত গতিতে বা খুব মন্থর গতিতে সংঘটিত হয়। ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত দেহে সরবরাহ করতে পারে না। এরকম ঘটনায় আমরা ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। তীব্র অ্যারিৎমিয়া দেহের অত্যাবশ্যক অঙ্গের কলা ধ্বংস করে এবং অনেক সময় মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায় এমনকি মৃত্যুবরণ করে। তাই সুস্থ দেহের জন্য চাই স্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন। অতএব উল্লেখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সুস্থদেহের জন্য প্রয়োজন হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন।